আবাদি জমির জৈব ঘাটতি

আবাদি জমির জৈব ঘাটতি

বাংলাদেশ ছোট একটি ভূ-খন্ড, অথচ জনসংখ্যা ১৬ কোটি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আবাদযোগ্য জমি তাতে যদি জৈব ঘাটতির অভাবে উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সেটা আমাদের জন্য একটা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। সুষম মাটিতে সাধারণত ৪৫ শতাংশ খনিজ বা মাটির কণা, ৫ শতাংশ জৈব এবং ২৫ শতাংশ করে পানি ও বাতাস থাকার কথা। এর মধ্যে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান জোগান দেয় মাটিতে থাকা ৫ শতাংশে জৈব পদার্থ। অথচ বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মোট আবাদযোগ্য ৮৭ লাখ ৫২ হাজার হেক্টর জমির ৬১.৬ শতাংশ মাটিতে জৈব পদার্থের মারাত্মক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, জলবায়ুর পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, একই জমিতে যুগের পর যুগ একই ফসলের চাষ, জমিকে বিশ্রাম না দেওয়া, রাসায়নিক সারের অসম ব্যবহারের কারণে মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে, আবাদি জমির ৪৪.৫ শতাংশের মধ্যে জৈব পদার্থের উপস্থিতি অতি নিম্ন পর্যায়ে, যা ১ শতাংশের নিচে। আর ১৭.১ শতাংশ জমিতে এর পরিমাণ রয়েছে ১ থেকে ১.৭৪ শতাংশের মধ্যে। ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ফসলি জমির মাটির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। সুষম সারের ব্যবহার, অর্থাৎ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মাটিতে ঠিক যতটুকু পুষ্টি বা খাবারের অভাব আছে ততটুকু সার ব্যবহার করতে হবে। এতে একদিকে যেমন ফসল উৎপাদনে ব্যয় কমবে, তেমনি ভালো থাকবে মাটির স্বাস্থ্য, উৎপাদিত ফসলের খাদ্য মান এবং পরিবেশ।