আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ

আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ

আবহাওয়ার গতি-প্রকৃতি একেবারেই এলোমেলো হয়ে উঠেছে। যখন বৃষ্টি শুরু হওয়ার কথা নয়, তখন বৃষ্টি হচ্ছে। আবার তখন বৃষ্টি হওয়ার কথা প্রতিদিনই, তখন বৃষ্টি হচ্ছে না। যখন তাপ প্রবাহ বয়ে যাওয়া স্বাভাবিক, যখন আবহাওয়া শীতল। শীতে বেশি বেশি ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়ে সারা দেশ। কালবৈশাখী হওয়ার কথা মাঝে মধ্যে, বড়জোর ১৫ দিনের সময় সীমায়। কিন্তু এখন তা হচ্ছে প্রতিদিন। কোনো কোনো দিন একাধিকবারও। সঙ্গে হচ্ছে অস্বাভাবিক সংখ্যায় বজ্রপাত। এ বছর এখন পর্যন্ত বজ্রপাত ছাড়া একদিনও বৃষ্টি হয়নি। গত দুই সপ্তাহে সারা দেশে বজ্রপাতে অন্তত ১৪০ জন মারা গেছে। প্রকৃতির এ অদ্ভুত আচরণ আজকের নয়, গত কয়েক দশক ধরেই লক্ষ্যযোগ্য মাত্রায় তা জানান দিচ্ছে। উন্নত- অনুন্নত সব দেশই প্রকৃতির এ বিচিত্র আচরণের শিকার হচ্ছে প্রায় সমানভাবে। সারা পৃথিবী উদ্বিগ্ন এখন বিষয়টি নিয়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিজনিত প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, কীভাবে প্রকৃতির বিচিত্র আচরণকে সামাল দেয়া যায় এনিয়ে উদ্বিগ্ন আবহাওয়াবিদ, প্রকৃতিবিদ ও পেশাজীবিরা।

বিশিষ্ট জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বর্তমান আবহাওয়া পরিস্থিতিকে বলেছেন, খামখেয়ালি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষণই হচ্ছে আবহাওয়ার ঘটনাগুলো (ঝড়, বৃষ্টি, গরম, শীত) তীব্র হয়ে ওঠা। এখন সেটাই দেখা যাচ্ছে। এগুলো আরো তীব্র হবে। একটা বিষয় লক্ষ্যণীয় যে আমাদের দেশটিকে গত প্রায় চল্লিশ বছর যারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ বলে করুণার দৃষ্টিতে দেখত, আজ তাদের দেশেই বন্যা, খরা, প্রচন্ড মাত্রার ঘূর্ণিঝড় দেখা দিচ্ছে। সত্যিকার অর্থে বলা চলে, বর্তমানে আমরা সবাই এক উপদ্রুত পৃথিবীর বাসিন্দা। আমেরিকায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও তুষারপাত কিংবা বাংলাদেশে ঝড়, বৃষ্টি, গরম। শীতকে এখন বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে বিবেচনার অবকাশ নেই। কারণ এর পেছনে রয়েছে স্বেচ্ছাচার, দায়িত্বহীনতা। উন্নত দেশগুলো বেশি কার্বন নিঃসরণ করে সারা পৃথিবীর জন্যই হুমকি তৈরি করেছে। এ সমস্যা সারা পৃথিবীর, তাই এ সমস্যা মোকাবেলায় সহযোগিতার অঙ্গীকারে দৃঢ় থাকতে হবে ধনী-গরীব সব দেশকেই।