আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি এলোমেলো

আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি এলোমেলো

জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন ১৯১৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনে প্রায় ৪ লাখ লোকের ‘পিপলস ক্লাইমেট মার্চ’ শীর্ষক বিক্ষোভ র‌্যালিতে অংশ নিয়ে বলেছিলেন, ‘এই গ্রহেই আমাদের আগামী প্রজন্ম বাস করবে। যেহেতু গ্রহ বি নামে কোন গ্রহ নেই, সেহেতু ‘পরিকল্পনা বি’ নামের কোনো পরিকল্পনা নেই। অর্থাৎ দ্বিতীয় পৃথিবী না থাকায় বিকল্প কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি আরও বলেছিলেন, বিশ্বের উচিত জনগণের মধ্যে বিদ্যমান পরিবর্তনের ক্ষমতাকে কাজে লাগানো। আমাদের কার্যক্রমকে কাজে লাগানো। ‘বিজ্ঞানীরা বলেন, আগামী দশকে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে। তাপমাত্রা বাড়ার ফলে সমুদ্র স্তর বৃদ্ধি পাবে। এতে তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করবে। আরো তীব্র মাত্রার সাইক্লোন হবে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হবে।

এখনই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে চলতি শতকের শেষ নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প সময়কালের চেয়ে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। এতে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ এলাকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি উৎপাদন, পানি সম্পদ, উপকূলীয় প্রতিবেশ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ২০৯০ সাল নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে দক্ষিণ এশিয়ায় বেশি বেশি বন্যা ও খরা হবে। এর ফলে দুই দশমিক পাঁচ ডিগ্রী সেলসিয়াস বাড়লে বন্যাপ্রবণ এলাকা প্রায় ২৯ শতাংশ বাড়বে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে বন্যা প্রবণ এলাকা প্রায় ২৯ শতাংশ বাড়বে। উষ্ণ হতে  থাকা জলবায়ুর ফলে দারিদ্র্য হ্রাস মন্থর হয়ে পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবার জীবন যাত্রাই বদলে যাবে। তবে এতে গরিবরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসন বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী প্রধানত উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। এসব দেশে শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে এবং জলবায়ু পরিবর্তনে তা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তিনি কার্বন ব্যবসার মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশে নেতিবাচক ভূমিকা রাখছে এ দেশগুলো। আর এর শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশ। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের তৎপরতার পাশাপাশি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।