আবদুল হামিদের মনোয়ন জমা এই মুহূর্তে তিনি গ্রহণযোগ্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি : কাদের

আবদুল হামিদের মনোয়ন জমা এই মুহূর্তে তিনি গ্রহণযোগ্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি : কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: রাষ্ট্রপতি পদে বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে দ্বিতীয় মেয়াদে বেছে নেয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে তার চেয়ে গ্রহণযোগ্য কাউকে তারা খুঁজে পাননি, যার কারণে দ্বিতীয়বারও তাকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ।গতকাল সোমবার দুপুরে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে আবদুল হামিদের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের কাছে মনে হচ্ছে তিনিই এই মুহূর্তে গ্রহণযোগ্য ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি। একটি দল করেও তিনি সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতিতো দলের রাষ্ট্রপতি নন, তিনি হলেন দেশের রাষ্ট্রপতি। কাজেই আমরা ওই ধরনের একজন মানুষকে খুঁজে নিয়েছি। তিনি দুইবারের স্পিকার এবং সাতবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। খাঁটি বাংলার বীরপুরুষ এবং বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা। তাকে আমরা চয়েজ করেছি, দেশের মানুষ গ্রহণ করেছে। নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে আওয়ামী লীগের কী প্রত্যাশা, জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, আমরা দলের কোনো প্রত্যাশা চাই না, তিনি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করলে আমরা খুশি। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘দুর্নীতি’ মামলার রায়ের দিন আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচি আছে কিনা, জানতে চাইলে দলটির সাধারণ সম্পাদক জানান, সেদিন তাদের কোনো কর্মসূচি নেই।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র দাখিলের সুযোগ ছিল। বুধবার যাচাই বাছাইয়ের পর ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মনোনয়নপত্রা প্রত্যাহার করা যাবে। প্রার্থীর সংখ্যা একজনের বেশি না হলে তাকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। আর একাধিক প্রার্থী হলে ১৮ ফেব্রুয়ারি সংসদের অধিবেশন কক্ষে বিধিমালা অনুযায়ী ভোট হবে। সেখানে সংসদ সদস্যরাই ভোট দিয়ে নতুন রাষ্ট্রপতি বেছে নেবেন। সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় রাষ্ট্রপ্রধানের পদে ৭৪ বছর বয়সী আবদুল হামিদের দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়া আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. আবদুল হামিদ। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ অবসানের কারণে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির তারিখের আগের নব্বই থেকে ষাট দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। ফলে ২৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। গত ৩১ জানুয়ারি গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের সভায় আবদুল হামিদকে আবারও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

শুক্রবার আবদুল হামিদের পক্ষে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এবং রোববার রাষ্ট্রপতি ওই মনোনয়নপত্রে সই করেন। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯ মেয়াদে এ পর্যন্ত ১৬ জন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই হিসোবে আবদুল হামিদ এই পদে সপ্তদশ ব্যক্তি। বাংলাদেশের আইনে এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বে থাকতে পারেন। ফলে এবার নির্বাচিত হলে এটাই হবে আবদুল হামিদের শেষ মেয়াদ।রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে হামিদকে জাপার সমর্থন২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল হামিদকে সমর্থন দিয়েছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা)। গতকাল সোমবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির  কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের প্রেসিডেয়াম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাপা প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের জানানো হয়, সভায় আগামী ২৪ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশ করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া এপ্রিলে লং মার্চ, রোড মার্চ, লঞ্চ মার্চ এবং রেল মার্চ করবে জাতীয় পার্টি।