আফ্রিকার দাবানল নিয়ে বিশ্ব এত নীরব কেন?

আফ্রিকার দাবানল নিয়ে বিশ্ব এত নীরব কেন?

প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে জ্বলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন অ্যামাজন। বিশ্বজুড়ে রব উঠেছে ‘পৃথিবীর ফুসফুসকে বাঁচাও’। অথচ, একই সময় আরও দু’টি জায়গায় ভয়াবহ আকারে আগুন ছড়িয়ে পড়লেও, তা নিয়ে কোনো হইচই নেই; নেই কোনো বিক্ষোভ, হ্যাশট্যাগ আন্দোলন, পত্রিকায় খবর কিংবা বিশ্বনেতাদের হুঁশিয়ারি। আফ্রিকার এ দাবানল নিয়ে একেবারেই নীরব গোটা বিশ্ব।


স্যাটেলাইট ডাটা জানাচ্ছে, অ্যামাজনে প্রায় তিনটি ফুটবল মাঠের সমান বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে প্রতি মিনিটে। আগুনের ভয়াবহ থাবায় সৃষ্ট ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা যাচ্ছে মহাকাশ থেকেও। 

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএনপিই) জানিয়েছে, এ বছর ব্রাজিলে আগুন লাগার ঘটনা গতবারের চেয়ে প্রায় ৮৩ শতাংশ বেশি। গত বছর এ সময়ে আগুন লেগেছিল ৪০ হাজারবারের মতো। এবার এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজারেরও বেশি, এরমধ্যে গত সপ্তাহেই ঘটেছে নয় হাজারবার। আর এসব অগ্নিকাণ্ডের অর্ধেকের বেশি ঘটেছে অ্যামাজন বনে।

আরও পড়ুন> অ্যামাজনে আগুন: দোষ ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের?

অ্যামাজনের বেশিরভাগ এলাকা ব্রাজিলের ভেতর। আর সেখানে দাবানল ছড়িয়ে পড়ায় কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো। তার নতুন আর্থিক নীতি স্থানীয়দের বন উজাড়ে উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমগুলোতে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্রাজিলের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করছেন হাজার হাজার পরিবেশবাদী, এ নিয়ে মুখ খুলেছেন বিশ্বনেতারাও।

ইতোমধ্যে অ্যামাজনের আগুন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে জি-সেভেন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এছাড়া, ব্রাজিলের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের হুমকি দিয়েছেন ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নেতারা। চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত অ্যামাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনা পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন প্রেসিডেন্ট বোলসোনারো।

আরও পড়ুন> ভাইরাল ছবিগুলো অ্যামাজনের নয়!

অ্যামাজনের আগুনের কারণে বিশ্ব যখন বিক্ষোভে উত্তাল, স্লোগান উঠছে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে, ঠিক সেসময়ই আফ্রিকায় আরও বড় দু’টি দাবানল শুরু হলেও সে খবর জানে না অনেকেই। 

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (২২ ও ২৩ আগস্ট) অ্যাঙ্গোলা ও কঙ্গোয় ব্রাজিলের চেয়ে বড় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। নাসার স্যাটেলাইট ডাটার ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য ও মিডিয়া বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ। ওই দুই দিনে শুধু অ্যাঙ্গোলাতেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে ৬ হাজার ৯০২টি ও কঙ্গোতে ৩ হাজার ৩৯৫টি। একই সময় ব্রাজিলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ১২৭টি।  

অথচ, আফ্রিকান দেশ দু’টির বনে আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়নি বিশ্বের নামী-দামী সংবাদমাধ্যমগুলোতে। রাস্তায় নামেনি পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও। দেশের শীর্ষনেতাদের পদত্যাগও চায়নি কেউ। এ নিয়ে যেন কারও কোনো মাথাব্যাথা নেই। 

আফ্রিকার দাবানলও দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।