আফজাল হোসেনকে ঘিরে মিলনমেলা

আফজাল হোসেনকে ঘিরে মিলনমেলা

অভি মঈনুদ্দীন : গেলো ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ধানমন্ডির ছায়ানটে অনুষ্ঠিত হয়েগেলো চিরসবুজ অভিনেতা, চিত্রশিল্পী, নির্মাতা ও লেখক আফজাল হোসেনের দুটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষ্যে বিশেষ মিলন মেলা। আফজাল হোসেনের ভাষ্যমতে সেদিনের মিলন মেলা ছিলো সবাই একসঙ্গে কিছুটা সময় একত্রিত হয়ে আড্ডা দেবার অজুহাত। বই প্রকাশনা অনুষ্ঠান একটি উপলক্ষ্য মাত্র। বিকেল ঠিক চারটায় নন্দিত অভিনেত্রী অপি করিমের সাবলীল উপস্থাপনার মধ্যদিয়েই শুরু হয় ‘মিলন মেলা’। মূলত আফজাল হোসেনের নতুন দুটি গ্রন্থ ‘১৯ নং কবিতা মোকাম’ এবং ‘সাবান মাখা রোদ’র এবারের একুশে গ্রন্থ মেলায় প্রকাশ উপলক্ষ্যে এই মিলন মেলা’য় আয়োজন করা হয়েছিলো। অপির আহ্বানে অনুষ্ঠানের শুরুতেই রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন বরেণ্য রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। তার কন্ঠে পরপর চারটি রবীন্দ্র সঙ্গীত উপস্থিত সকল শ্রোতা দর্শককে মুগ্ধ করে। এরপর একে একে অপি’র আহ্বানে আফজাল হোসেনকে নিয়ে নানান ধরনের স্মৃতিচারণা মূলক কথা বলেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগর, ছড়াকার লুৎফর রহমান রিটন, চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, আফজাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইফতেখারুল ইসলাম’সহ আরো বেশ কয়েকজন। সবার কথা শেষে অপি করিমের আহ্বানে মঞ্চে আসেন বিপাশা হায়াত।

 তবে তিনি কথা বলতে নয়, তিনি মঞ্চে উঠেছিলেন আফজাল হোসেনের লেখা কয়েকটি কবিতা আবৃত্তি করে আমন্ত্রিত অতিথিদের শোনাতে। দীর্ঘদিন পর বিপাশা হায়াতের কন্ঠে কবিতা আবৃত্তি উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে। তবে ১১ ফেব্রুয়ারি দুটি বই প্রকাশনা উৎসবের দিন ধার্য করার কারণ মঞ্চে উঠে জানালেন আফজাল হোসেন। মঞ্চে উঠেই আফজাল হোসেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে তার গান পরিবেশনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আফজাল হোসেন তার স্ত্রী তাজিন হালিমের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যে কথাটি কাল রাত থেকে এখনো বলা হয়নি, তা হলো শুভ জন্মদিন।’ ছায়ানটের মিলনায়তন ভর্তি আমন্ত্রিত অতিথিরাও তখন তাজিনকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। নিজের দুটি বই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আফজাল হোসেন বলেন,‘ আমরা জানি এখানে যারা আছেন তারা সবাই সবাইকে খুউব ভালোবাসি। কিন্তু মাঝে মাঝে সেই ভালোবাসাটুকুরও জানান দিতে হয়। সেই জানান দিতেই আজকের এই অজুহাত। আজকের দিনের প্রাপ্তি রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার অসাধারণ গান।

 আবার যাদের ভালোবাসা পেয়েছি সেটাও অনেক বড় প্রাপ্তি। আমার আজকের যতো পরিচিতি সবই কিন্তু আমার স্ত্রীর কারণে। আমি কোনকালেই প্রভাব বা প্রতিপত্তি, কোনটাই চাইনি। চাইনি বড় হতে, বিশেষ হতে। এঁটা সত্যি আমরা সবাই প্রধান হতে চাই বলে আমরা অনেকেই অনেক অর্জন থেকে দূরে সরে যাই। আমি বিশ^াস করি চর্চা এবং অনুশীলনের মধ্যদিয়ে নিজেকে নির্মাণ করা যায়। আমি বড় হতে চাইনি এর একমাত্র কারণ হলো প্রকৃতিগত অনেক কিছুই বিসর্জন দিতে হয়। আমি আমার মতো করেই বাঁচতে চেয়েছি।উল্লেখ্য এবারের গ্রন্থমেলায় দুটি বই অনন্যা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে। আফজাল হোসেনের মিলন মেলায় আরো উপস্থিত ছিলেন শহীদুজ্জামান সেলিম, আফসানা মিমি, রোজী সেলিম, তানভীন সুইটি, সৈয়দ আপন আহসান, ত্রপা মজুমদার, তারিন জাহান, তারিনের দুই বোন তুহিন ও নাহিন’সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানটিতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন আফজাল হোসেনের দুই বন্ধু সানাউল আরেফীন ও খন্দকার আলমগীর। ছবি- গোলাম সাব্বির।