আপনার জন্মে আলোকিত বাংলাদেশ

আপনার জন্মে আলোকিত বাংলাদেশ

আমিনুল ইসলাম ডাবলু : স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশ এখন নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে। আর্থ-সামাজিক সকল সূচকে দেশের উন্নয়ন আজ দৃশ্যমান। সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় জনগণ ভোগ করছে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুবিধা। রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক সকল ক্ষেত্রেই অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নারী প্রতিনিধিত্ব। ১০ বছর আগের দেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকের বাংলাদেশ আত্মপ্রত্যয়ী। দ্রুত সময়ের মধ্যে দারিদ্র হ্রাসে বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বব্যাংক মডেল হিসেবে বিশ্বব্যাপী উপস্থাপন করেছে। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসড়কে।  রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। আগামী প্রজন্ম পাবে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার জন্মদিনে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। উন্নয়নের সকল সূচকে বাংলাদেশ আজ বিস্ময়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে অগ্রসর বাংলাদেশ। খাদ্যশস্য, মৎস্য, শাকসবজি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ সকল ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে গেছে। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চালের উৎপাদন প্রতি বছর বেড়েছে। নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করে চাল উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্তরণ জাতির জন্যে বিরাট অর্জন। জাতির পিতার স্বপ্ন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত  সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা, সেই পথেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আরো একধাপ এগিয়েছি। স্বল্পোন্নত  দেশ জাতিসংঘ কর্তৃক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে জাতির পিতার জন্মদিনে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি লাল সবুজের বাংলাদেশ। তিনি সমৃদ্ধ দেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো আর শূন্য ভান্ডার নিয়ে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশ ‘বিজয় যাত্রা’য় এগিয়েছে অনেক দূর। বাংলাদেশের ধারেকাছে নেই এখন পাকিস্তান। বাংলাদেশের মুকুটে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন পালক। সমুদ্র থেকে মহাকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে বাংলাদেশের বিজয়ের চিহ্ন।
বাঙালি জাতিকে উন্নয়নের ধারায় ফিরিয়ে এনেছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। সামরিক শাসনকে  মোকাবেলা, অন্যদিকে দলে নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে তাঁকে সামাল দিতে হয়েছে। নিজের বিচক্ষণতা, ধৈর্য ও বুদ্ধিমত্তার বলে শেখ হাসিনা ধীরে ধীরে দলের একক নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন। ঘাতকের বুলেট বারবার তাকে হত্যার চেষ্টা করলেও বাংলার জনগণের দোয়া ভালোবাসায় মহান আল্লাহ তাঁকে নিরাপদে রেখেছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব মানবতার বাতিঘর।

তাঁর নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু’র সোনার বাংলা, মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, তাঁরই সুযোগ্য কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সে পথেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শিক্ষার উন্নয়নে নবদিগন্ত সৃষ্টি করেছেন তিনি। বছরের প্রথম দিনে বিনামূল্যে বই বিতরণ পৃথিবীর বুকে নজিরবীহিন। শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ, মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন, কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাওরায়ে হাদিস সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি মাস্টার্স ডিগ্রীর সমমান প্রদান করেছেন। শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এমন সুদুরপ্রসারী চিন্তা আর কোন সরকার প্রধান কখনই করেননি। আন্তর্জাতিক আদালতে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সম্পর্কিত মামলার রায়ে বাংলাদেশের বিজয় অর্জিত হয়েছে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার আন্তরিক প্রচেষ্টায়। যার মাধ্যমে নিজস্ব সমুদ্রসীমার বাইরে মহীসোপানে এক বিরাট এলাকার ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মোট ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।  

পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রজেক্ট নিজেদের টাকায় করার মতো দুঃসাহস এখন বাংলাদেশ দেখাতে পারে। মেট্রোরেলের কাজ চলমান। আকাশে উড়ছে নিজস্ব স্যাটেলাইট। সেখান থেকে প্রাপ্ত ছবি দিয়েই চলছে দেশের সম্প্রচার কার্যক্রম। শুধু তথ্য-প্রযুক্তি খাতে এক দশকে প্রায় ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি আজ চাঙ্গা। কৃষির সবুজ বিপ্লব দারিদ্র্য কমিয়ে গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। সরকার পিছিয়ে পড়া ও অতিদরিদ্রদের জন্য সামাজিক কর্মসূচি খাতে অব্যাহতভাবে বাজেট বাড়িয়েছে। দেশের ৪০ শতাংশেরও বেশি অতিদরিদ্র মানুষ এখন এই কর্মসূচির আওতায়।

যুবসমাজকে দক্ষ জনসম্পদে পরিণত করতে তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্নমুখী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে যুবদেরকে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও কর্মসংস্থান ব্যাংক থেকে বিনা জামানতে ঋণ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল সার্ভিসের আওতায় যুবকরা অস্থায়ী কর্মে নিযুক্ত। জিডিপি’র অব্যাহত প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি, এমডিজি অর্জনে সাফল্য, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা  সেতুর মতো বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক উন্নয়ন ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্ববাসীর কাছে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। বিপুল প্রাণশক্তিতে উজ্জীবিত যুবসমাজ তাদের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে নিয়ে যাবে।

বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু দীর্ঘ ২৩ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। কারো কৃপা বা অনুকম্পায় নয় বরং রক্তের বিনিময়ে বিশ্বের মানচিত্রে যুক্ত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে হবে সম্মুখপানে। সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিজয়যাত্রা অব্যাহত থাকুক শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নতির পথে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরন রাখবে।  জয়বাংলা, জয়বঙ্গবন্ধু।
লেখক: সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ
বগুড়া জেলা শাখা।
[email protected]
০১৭১১-১৪১৬৭৮