আদালত কক্ষে হত্যাকান্ড

আদালত কক্ষে হত্যাকান্ড

কুমিল্লার আদালতে বিচারকের খাস কামরার একটি হত্যা মামলার আসামি ফারুক খুন হয়েছেন। ঘাতক একই মামলার আসামি হাসান শুনানি চলাকালে হঠাৎ ছোরা হাতে ফারুককে ধাওয়া করে। ফারুক তাড়া খেয়ে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে বিচারকের খাস কামরায় ঢুকে পড়ে। হাসানও তার পিছু নিয়ে ঢুকে যায় খাস কামরায়। ফারুককে টেবিলের ওপর ফেলে হাসান এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকে। গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জনাকীর্ণ আদালতে বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ ও দর্শনার্থীদের সামনে ফিল্মি কায়দায় এই রোমহর্ষক খুনের ঘটনার সময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর পুলিশ ঘাতক হাসানকে ছোরা সহ গ্রেফতার করে। কুমিল্লায় বিচারকের সামনে এক আসামির ছুরিকাঘাতে আরেক আসামি নিহত হওয়ার পর সারা দেশের আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এজলাসের দরজায় পুলিশের উপস্থিতির পরও আসামি কীভাবে ছুরি নিয়ে আদালতে প্রবেশ করল তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অনেকেই। একই সঙ্গে অবিলম্বে দেশের সব আদালতের নিরাপত্তা জোরদারেরও দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজ্ঞরা। কুমিল্লার এই ঘটনা বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আদালতের নিরাপত্তা বিধানে গৃহীত ব্যবস্থা কতটুকু কার্যকর? একজন খুনি বড় ছুরি নিয়ে সেখানে ঢুকল কিভাবে? এজলাস কক্ষেই বা ঢুকল কী করে? ছুরি হাতে যদি সেই কামরায় ঢুকে যেতে পারে, তাহলে বিচারকের নিরাপত্তা থাকে কোথায়? আমরা আশা করব, নিন্দনীয় এ হত্যাকান্ড দেশের সব আদালতের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার তাগিদ সৃষ্টি করবে। আদালতে বিচারক, আইনজীবী কিংবা বিচার প্রার্থী বা আসামি সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যা যা করণীয় তা করা হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি মহলের প্রতি অনুরোধ, বাস্তবতাকে আর অস্বীকার না করে অবস্থার পরিবর্তনে কিছু করুন। সমাজকে বসবাসের উপযোগী রাখুন।