রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৬ বছর

আজও কান্না থামেনি দু’পা হারানো রেবেকার

আজও কান্না থামেনি দু’পা হারানো রেবেকার

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : সময়ের সাথে সাথে দেশের গার্মেন্টস খাতের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা রানা প্লাজা ধসের স্মৃতিও বিলীন হতে চলেছে। কিন্তু এখনো থামেনি কান্নার রোল। স্বজন হারানো পরিবারগুলোতে এখনও চলছে শোক। আজ বুধবার এই ট্র্যাজেডির ৬ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল এই দিনে সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এই দুর্ঘটনার ৬ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো ৫১ শতাংশ শ্রমিক কর্মহীন রয়েছে বলে দাবি বিভিন্ন শ্রমিক অধিকার সংস্থাগুলোর। রানা প্লাজা ধসের এই দিবসটিকে শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়েছে রানা প্লাাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বারাই হাট এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক রেবেকা খাতুন দু’পা হারিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করছে। ফুলবাড়ী উপজেলার বারাই হাট এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, দু’পা হারানো রেবেকা খাতুন তার দুই বছরের কন্যা সন্তানকে পাশে রেখে অনেক কষ্ট করে চুলায় রান্না করছেন। রেবেকা রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় আহত শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিদিন হাসপাতালে ছিলেন। পুরোপুরি সুস্থ হতে প্রায় ১০ মাসের মতো তাকে হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। দুই পায়ে মোট আটবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। ঐ দুর্ঘটনায় তিনি তার মাসহ পরিবারের আরো দুইজনকে হারিয়েছেন। কান্না বিজড়িত কন্ঠে     রেবেকা খাতুন বলেন, রানা প্লাজা ধসের ঘটনার ৬ বছর হয়ে গেলেও এখনো দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করে ফেরে তাকে। রানা প্লাজা ধসের দুই বছর আগে পছন্দ করে মোস্তাফিজুর রহমানকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর রানা প্লাজা ধসে মোস্তাফিজুর আর রেবেকার সুখের সংসার লন্ডভন্ড হয়ে যায়। রানা প্লাজার ইট-পাথরের স্তূপে হারিয়ে যান মা চান বানু বেগম।

 মারা যান দাদি ও ফুফু। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর তার জ্ঞান ছিল না। দুই দিন পর জ্ঞান ফিরে এলে দেখে সে পায়ের ওপর সিমেন্টের বিম চাপা, অন্ধকার এক জায়গায় পড়ে আছেন তিনি। তখন চিৎকার করতে থাকলে কয়েকজন উদ্ধারকর্মী কাছে আসেন। কিন্তু বোঝা তার শরীরে চাপা থাকায় তখনও উদ্ধার করতে পারেননি তারা। এ সময় রেবেকা উদ্ধার কর্মীদের তার স্বামীর মুঠোফোন নম্বর দেন। পরে তার স্বামী এসে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করেন। ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে দীর্ঘ এক বছর রেবেকাকে চিকিৎসা নিতে হয়। বাম পা কোমর পর্যন্ত ও ডান পা গোড়ালি পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে তার। রেবেকা খাতুন জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন। সেটি স্থায়ী আমানত হিসাবে ব্যাংকে আছে। সেই স্থায়ী আমানতের টাকা দিয়ে কোনমতে তাদের সংসার চলে। তার দেখাশুনার জন্য তার স্বামী বাইরে কাজ করতে পারে না। তিনি বলেন, আমার স্বামী আমার প্রসাব পায়খানা পরিষ্কার করা থেকে শুরু করে ঘর সংসারের সব কাজ করেন। এখন আর আমাদের কেউ খোঁজ নিতে আসে না।