আজ রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারি

আজ রক্তে রাঙানো ২১ শে ফেব্রুয়ারি

সৈয়দ আহমেদ অটল : বছরের পর বছর রক্তাক্ত একুশ আসছে। আসছে সেই ১৯৫২ সাল থেকে। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ৬৭তম বার্ষিকী আজ। এ ভাবেই আগামীতেও আসবে একুশ। ভাষার দাবিতে রফিক, বরকত, জব্বার, সালাম, শফিউর জীবন দিয়ে একুশকে করেছেন রক্তাক্ত। সেই একুশের পথ বেয়ে আমরা ধাপে ধাপে নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একাত্তরে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা। সেই একুশের চেতনাই আমাদের চলার পাথেয়। বাঙালি জাতির সংগ্রামী ইতিহাস। একুশের চেতনার মূল কথাই ছিল গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর সেই চেতনার সাথে যুক্ত হয়েছে শোষণ মুক্তি ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা। সর্বস্তরে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করাসহ একুশের চেতনাকে বাস্তবায়ন করতে জাতিকে অনেক সংগ্রামী পথ পাড়ি দিতে হবে। বাংলা আমাদের গৌরব, আমাদের অহংকার। একুশের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব তাই আমাদেরই। মাতৃভাষা- মা ও মাতৃভূমির মতই আমাদের বড় প্রিয়- তাই জাতির উপর যখন আঘাত আসে, তখন আমরা সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করি। কারণ মাতৃভাষা নিঃশ্বাস বায়ুর মত আমাদের মানবিক সত্তার এক অপরিহার্য অংশ। তাই আমরা গেয়ে উঠি, বারবার গাই-‘মোদের গরব, মোদের আশা, আ মরি বাংলাভাষা/ তোমার কোলে, তোমার বোলে কতই শান্তি ভালোবাসা...।’ শহীদদের প্রতি প্রাণের আকুতি জানিয়ে     
বলতে দ্বিধা করি না ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি।’ আজ জাতি সশ্রদ্ধাচিত্তে অমর একুশের মহান শহীদ দিবস পালন করবে। সেই সাথে পালিত হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি পায়। যে কারণে বিশ্বের দেশে দেশে উদযাপিত হবে দিবসটি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে গোটা পূর্ববাংলায় ধর্মঘট আহবান করে। এই কর্মসূচি ঠেকাতে পূর্ব বাংলার নূরুল আমিন সরকার ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় সব ধরনের সমাবেশ-মিছিল নিষিদ্ধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করে। কিন্তু ছাত্র-জনতা ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমতলায় সমাবেশ করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ভাষা সংগ্রামী গাজীউল হক। সেদিন ছাত্র সমাজ সর্বপ্রথম মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে স্বৈরশাসকের ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রক্ত ঢেলে দিয়েছিল রাজপথে। সেই প্রস্তাবটি আসে আরেক ভাষা সংগ্রামী আবদুল মতিনের ঘোষণা থেকে। সেদিন ঢাকার রাজপথ হয়েছিল রক্তাক্ত। আজ সরকারি ছুটির দিন। অর্ধনমিত থাকবে জাতীয় পতাকা। উত্তোলিত হবে কালো পতাকা। আজ দিন শুরুর প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পক্ষে অমর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এদিকে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী প্রদান করেছেন। রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণীতে অমর শহীদদের প্রতি গভির শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বাণীতে তারা বলেছেন, মহান ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এ আন্দোলন কেবল আমাদের মাতৃভাষার দাবি আদায় করেনি বরং তা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটায় এবং স্বাধিকার অর্জনে বিপুলভাবে উদ্বুদ্ধ করে। এ আন্দোলনের পথ বেয়ে ১৯৭১ সালে অর্জিত হয় বাঙালি জাতির বহু কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। বাণীতে তারা একুশের চেতনায় দেশ গড়ার আহবান জানিয়েছেন। মহান ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে আজ বিভিন্ন রাজনৈতক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সংবাদপত্র বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করবে।