উন্নয়নশীল দেশের পথে যাত্রা * রাজধানীর ৯ পয়েন্ট থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা * উৎসব চলবে ২৬ মার্চ পর্যন্ত

আজ প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা

আজ প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের পথে যাত্রা শুরু করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সরকারের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া রাজধানীর নয়টি পয়েন্ট থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হবে। এই শোভাযাত্রাগুলো প্রায় একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল ৩টায় পৌঁছাবে। এরপর সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। আঁধার নামার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে লেজার শো বা আলোর খেলা।  বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সব তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) সম্প্রতি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতি দেয়। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার শর্ত পূরণ করায় বাংলাদেশ এখন আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে পারবে। সব ঠিক থাকলে   ২০২৪ সালে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উত্তরণ ঘটবে। ওই স্বীকৃতি আসার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সারা দুনিয়ায় আমাদের বদনাম ছিল, আমরা গরিব। সে অবস্থা আর এখনৃ. আসমান আর পাতাল।... আমরা সাহায্যের জন্য হাত পাতি- সে কথা আমাদের শুনতে হয়েছে। আজ আমি খুব গৌরব বোধ করছি। উদ্দীপ্ত, হাসি-খুশী মুহিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি উদযাপনের আহ্বান জানান।
আগামী ২০২৪ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা কিছু ক্রাইটেরিয়া পূর্ণ করায়, উন্নয়নশীল দেশে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করেছি। আমাদেরকে আরো ছয় বছর এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। এই ধারাবাহিকতা যদি আমরা ধরে রাখতে পারি, ২০২৪ সালে  উন্নয়নশীল দেশে অন্তর্ভুক্ত হব। সেই পর্যন্ত জাতিসংঘের সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাতেই থাকব।মন্ত্রী আরো বলেন, প্রাথমিক যোগ্যতা অর্জন করার বিষয়টি আগামীকাল সারা দেশে আড়ম্বরপূর্ণ জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর অসাধারণ নেতৃত্বে আমরা এই যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। এ কারণে আগামীকাল প্রধানমন্ত্রী বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। এ উপলক্ষে অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি সোমনারের আয়োজনও করা হয়েছে। চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জন করতে এখনও ছয়বছর বাকি। প্রাথমিকভাবে মনোনীত হওয়ায় এত আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের কারণ কি’- সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বরাবরই উৎসবপ্রিয় জাতি। ছোটখাটো কিছু হলেই আতশবাজি করা হয়। আমরা প্রাথমিকভাবে মনোনীত হলেও এটি আমাদের জন্য বিরাট অর্জন। আমাদের এখন কাজ বেড়েছে, দায়িত্ব বেড়েছে। আমাদের অনেক দূর যেতে হবে। এসব অনুষ্ঠান থেকে আমরা প্রেরণা পাব। উন্নয়নশীল দেশ হলে আমাদের চ্যালেঞ্জ কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নতি করতে হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তা হস্তান্তর করা হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এই স্বীকৃতির উদযাপন হবে ৭ দিন ধরে। ২০ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ উৎসব চলবে। মাথাপিছু আয়, মানবোন্নয়ন সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকের ভিত্তিতে তিন বছর পর পর স্বল্পোন্নত দেশগুলোর উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের আবেদন পর্যালোচনা করে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। একটি দেশের মাথাপিছু আয় কমপক্ষে ১২৩০ ডলার, মানবোন্নয়ন সূচকে স্কোর ৬৬ বা তার বেশি এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর ৩২ বা তার কম হলে সেই দেশকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির যোগ্য বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১২৭১ ডলার, মানবোন্নয়ন সূচকের স্কোর ৭২.৯ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে স্কোর ২৪.৮ হওয়ায় বাংলাদেশ এ স্বীকৃতি পেয়েছে। ১৯৭৫ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির পর বাংলাদেশ এবারই প্রথম তিনটি সূচকে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণে সক্ষম হয়েছে। ২০২১ সালে সিডিপির ত্রি-বার্ষিক পর্যালোচনায় বাংলাদেশ যদি আবারও এ মানদ-গুলোর কমপক্ষে দুটি পূরণ করতে পারে, সিডিপি তখন বাংলাদেশের উত্তরণের জন্য সুপারিশ করবে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল তা অনুমোদন করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঠাবে। তিন বছর পর ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এ স্বীকৃতির ফলে বাংলাদেশের জন্য দুই চারটি ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হলেও অনেক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে। বিনিয়োগ, পুঁজিবাজার, জিএসপিসহ নতুন নতুন অনেক ক্ষেত্রে দরজা খুলে যাবে। মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বের কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ইআরডি সচিব শফিকুল আজম ও অতিরিক্ত সচিব মনোয়ার আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।