আজ থেকে হলে হলে জয়া চঞ্চলের ‘দেবী’

আজ থেকে হলে হলে জয়া চঞ্চলের ‘দেবী’

অভি মঈনুদ্দীন : অবশেষে অনেক প্রতীক্ষার পর আজ সারাদেশের ২৯টি সিনেমা হলে মুক্তি পাচ্ছে সরকারী অনুদানে জয়া আহসান প্রযোজিত হমায়ূন আহমেদ’র উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত অনম বিশ্বাস পরিচালিত ‘দেবী’ চলচ্চিত্রটি। বিগত প্রায় এক মাসে জয়া আহসান এই চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের প্রতিটি দর্শকের কাছে দেখার জন্য আগ্রহ সৃষ্টির ক্ষেত্রে নানান ধরনের ব্যতিক্রমী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে জয়া আহসান ও চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত ‘দেবী’ চলচ্চিত্রটি দেখার জন্য দর্শকের মধ্যে বেশ আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সে’র দেয়া তথ্য অনুযায়ী খুব সহজেই অনুমেয় যে ‘দেবী’ দেখার জন্য দর্শকেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। সেই অপেক্ষার প্রহর শেষে আজ দর্শকের সামনে হাজির হচ্ছে ‘দেবী’। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় এবং সকল শিল্পীদের আন্তরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে জয়া আহসান বলেন,‘ মনটা ভীষণ খারাপ বাচ্চু ভাইয়ের হঠাৎ চলে যাওয়ায়। আমার সঙ্গে হলে বসে দেবী দেখার কথা ছিলো তার।

 কিছুদিন আগেও একটি শো’তে তিনি আমাকে দেখে অনেক অনপ্রেরণা দিয়েছিলেন। তার চলে যাওয়াটা আমাদের জন্য ভীষণ শূণ্যতার। যাইহোক, দেবীতে  রানু একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্র। একই সঙ্গে দু’জন মানুষ বাস করে তার ভেতর। এই চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে আমাকে অনেক শ্রম দিতে হয়েছে। আবার এটাও সত্যি হুমায়ূন আহমেদের রানুর চেয়ে অনম বিশ্বাসের রানু চরিত্রটি একটু আলাদা। অন্যভাবে অ্যাডাপ্ট করা। কোন চরিত্রে দেবী’তে কে কতোটা ভালো করেছেন সেই বিচারে আমি যাবোনা। যেহেতু দেবী আজ মুক্তি পাচ্ছে। তাই দর্শকের রায়ের অপেক্ষাতেই থাকবো আমি। আমি বিশেষত কৃতজ্ঞ চঞ্চল চৌধুরী, অনিমেষ আইচ, শবনম ফারিয়া, ইরেশ জাকের-তারা প্রত্যেকেই দেবীর প্রচারণায় আমাকে ভীষণভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমি বিশ্বাস করি একটি ভালো চলচ্চিত্র নির্মাণের পর তা দর্শকের কাছে পৌঁছানোর জন্য ভালো প্রচারণাটাও জরুরী। যে কারণে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিও আমি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।’ চঞ্চল চৌধুরী বলেন,‘ শুরুতেই বাচ্চু ভাইয়ের বিদেহী আতœার শান্তি কামনা করছি।  দেবী নিয়ে আমার প্রত্যাশা একটাই, আর তা হলো দেবী দেখতে যেন দর্শক হলে যান।

 দর্শক যেন দেবী’র ইউটিউবে প্রচারের অপেক্ষায় যেন না থাকেন। কারণ দর্শক হলে গেলে একজন প্রযোজক নতুন চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে উৎসাহ পাবেন। আমাদের এখানে এই সময়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করা খুব কঠিন। বাজেট এবং আনুষঙ্গিক অন্যান্য সবকিছু মিলিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ খুবই কঠিন। তাই জয়া আহসান যেহেতু অনেক কষ্ট করে তার প্রযোজনায় দেবী নির্মাণ করেছেন, আসুন তাকে উৎসাহ দিতে আমরা দেবী দেখতে মহাসমারোহে দলে দলে হলে যেন যাই। হুমায়ূন আহমেদ’র গল্পের চরিত্রগুলোতে পর্দায় কতোটুকু ভালোলাগবে তাও দর্শকের দেখা উচিত। অনম বিশ্বাস অনেক আন্তরিকতা নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন। আমার বিশ্বাস দেবী দর্শকের ভালোলাগবে। হুমায়ূন আহমেদ’র গল্পেতো একটা জাদু আছেই। কিন্তু তার অভিনীত চরিত্রগুলো সিনেমার পর্দায় কতোটুকু জাদু দেখাতে পারে তা দেখার জন্য হলেও যেন দর্শক হলে যান।’ জয়া আহসান জানান আজ তিনি সকালের শো’তে বলাকা সিনেমা হলে এবং পরবর্তীতে বসুন্ধরা সিনেপ্লেক্সেও যাবেন। তবে আইয়ূব বাচ্চুকে ঘিরে নানান কার্যক্রমে থাকারও চেষ্টা করবেন তিনি।
ছবি ঃ মোহসীন আহমেদ কাওছার