আগুনে পুড়েছে সম্পদ, পুঁজি আর সঞ্চয়

আগুনে পুড়েছে সম্পদ, পুঁজি আর সঞ্চয়

পোড়া কাপড়ের স্তূপে বসে নীরবে কাঁদছিলেন মো. আজিম। জহুর হকার্স মার্কেটের ৪৫৫ নম্বর দোকানটির মালিক তিনি। বললেন, ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দোকানে পণ্য তুলেছি। আগুনে সব শেষ।


শনিবার (১৯ অক্টোবর) ভোররাতে নগরের জহুর হকার্সের পাশের জালালাবাদ মার্কেটের আগুন আজিমের মতো সর্বনাশ করেছে শতাধিক দোকানিকে।

শেখ কামাল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জন্য আড়াই হাজার গেঞ্জি স্ক্রিন প্রিন্ট করেছেন মো. ইয়াসিন। আগুনে সব পুড়ে ছাই।

ইয়াসিন বলেন, ভোর চারটায় এসে দেখি সব শেষ। আজ গেঞ্জিগুলো ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। দোকানের ক্যাশে ছিল আড়াই লাখ টাকা। তাও পুড়ে ছাই।আগুনে পোড়া পোশাক। ছবি: উজ্জ্বল ধরজহুর হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল আমিন জানান, জালালাবাদ ও শাহজালাল মার্কেটের দোতলার ৭০টি দোকানের পণ্যসামগ্রী পুড়ে গেছে। এ ছাড়া জহুর মার্কেটের অন্তত ৩০টি দোকান পুড়ে গেছে। এসব দোকানে কম্বল, বেডশিট, আয়রন, অ্যামব্রয়ডারি, রেডিমেড গার্মেন্ট, শার্ট ছিল।

সকাল ৭টায়ও পুড়ছিল জালালাবাদ মার্কেটের হাজী এম হোসেন নামের দোকানটির দোতলা। দোকান মালিক মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, আমার ৩০ লাখ টাকার বেডশিট, দরজার পর্দা, লেপ তোশকের কাপড় পুড়ে গেছে। আগুন আমার সর্বনাশ করেছে।

আগুনে পোড়া পোশাক দেখাচ্ছেন একজন দোকানি। ছবি: উজ্জ্বল ধরব্লু বার্ডের মালিক আইয়ুব উজ জামান বলেন, দোকানের জমিদার ফোন করায় পৌনে পাঁচটায় ছুটে আসি। দোতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিচতলার শোরুমের রেডিমেড শার্ট দ্রুত বের করে আনি। আমার মতো জহুর হকার্সের ১ হাজারের বেশি দোকানের মালিক, কর্মচারী ছুটে এসেছেন।

জহুর হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন বাবুল জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণে আজ শনিবার মার্কেট বন্ধ থাকবে।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, চুরি ও কৌতূহলী মানুষের ভিড় ঠেকাতে কাজ করছে পুলিশ।