‘হেয় প্রতিপন্ন করতে অভিযোগ’

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক এমপির শাস্তি দাবি

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক এমপির শাস্তি দাবি

স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিযোদ্ধাদের অনুষ্ঠানে গিয়ে তাদেরকেই কটূক্তির অভিযোগে শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠেছে।গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তার বক্তব্যের প্রতিবাদ ও ব্যবস্থা নিতে মানববন্ধন করেছে কয়েকটি সংগঠন। এতে অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সমন্নয় কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ ও জাজিরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যের শাস্তির দাবি জানানো হয়।

 বক্তারা বলেন, গত ১৬ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের জাজিরায় মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় বি এম মোজাম্মেল হক মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে গালি ব্যবহার করেন। এই ঘটনার ভিডিওচিত্র এরই মধ্যে ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু মোজাম্মেল ক্ষমা চাননি। আর ফেসবুকে ভিডিও চিত্রটি ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে মোজাম্মেলের শাস্তি দাবিতে সক্রিয় হয়েছে বেশ কিছু সংগঠন। সংগঠনে আসা নেতা-কর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে বার বার যোগাযোগ করেও বি এম মোজাম্মেলের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক মুক্তিযোদ্ধাকে শাসিয়ে সাংসদ মোজাম্মেল বলছেন, ‘... এর মুক্তিযোদ্ধা, আবার কথা বললে বিরাট ক্ষতি হয়ে যাবে।

মানববন্ধনে আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সংগঠনের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় থাকার পরও কেন মুক্তিযোদ্ধাদের অপমানে অপদস্ত করা হচ্ছে, আমাদের কেন রাস্তায় নামতে হচ্ছে, সরকার প্রধানের কাছে আমরা জবাব চাই। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে বিএম মোজ্জাম্মেল হক মুক্তিযোদ্ধাকে যে সকল ভাষায় গালি দিয়েছেন এটা কোনোভাবে কাম্য নয়। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান অপদস্ত করে তিনি রাষ্ট্রের আইন প্রনেতা হিসেবে থাকতে পারে না। অতি শিগ্র তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি আসবে। বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ আহম্মেদ  বলেন, আমরা বি এম মোজাম্মেল হবেকর অপসারণ চাই। তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সেই সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সুরক্ষা আইন করতে হবে। মানববন্ধনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সমন্নয় কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদ জানাতে আমরা আজ মানববন্ধন করছি। আজকে সব জায়গায় এরকম, ভাবে বসে আছে মুক্তিযোদ্ধের বিরোধী শক্তি। তাদের প্রতিহত করতে হবে। এ সময় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম সমন্নয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক কায়সার নাসিম, বাংলাদেশ প্রজন্ম সংসদের সভাপতি এ এন এম ওয়ালীউর রহমান মোল্লা, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা রুমা আক্তার প্রমুখ।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হকের ভাষ্য, নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে জাজিরার মোবারক আলী শিকদার ও আব্দুল হক মুন্সি ‘তার বন্ধু’ ওই মুক্তিযোদ্ধাকে শাসানোর একটি ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল করিয়েছে। তিনি বলেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এবং আমার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। জাজিরার মোবারক আলী শিকদার, আব্দুল হক মুন্সি কিছু লোকজনকে আমার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন। মোজাম্মেল হক আরও বলেন, বাস্তবে যে মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন, আমার বন্ধু। তারা একটি ভিডিও ফেইসবুকে ভাইরাল করেছে। ওই মুক্তিযোদ্ধা আরেকজনকে রাজাকার বলায় আমি তাকে শাসিয়েছি। বলেছি, তুমি তো কারো সার্টিফিকেট দিতে পার না। তিনি বলেন, আজ একমাস পর ওই চক্রটি সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমার বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি সবসময় মুক্তিযোদ্ধাদের পাশে থাকি, আজকেও ওই মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিযোদ্ধা নেতাদের নিয়ে একসঙ্গে বসেছি, দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছি, খাওয়া-দাওয়া করেছি। তারা সবাই বলেছেন- আমি তাদের কাছের লোক, আমার পাশে তারা সবসময় আছেন।