আওয়ামী লীগ যে সিদ্ধান্ত নেয় তাই ইতিহাস

আওয়ামী লীগ যে সিদ্ধান্ত নেয় তাই ইতিহাস

মাশরাফী হিরো: আওয়ামী লীগ একটি অনুভূতির নাম। কথাটি বলেছিলেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আর এই অনুভূতিকে আবর্তন করেই সৃষ্টি হয়েছে হাজারো ইতিহাস। আওয়ামী লীগ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী পালনের পূর্বে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল সৈয়দ আশরাফ বেঁচে থাকতে। সভার শুরুতেই সবসময় সংগঠনের সভাপতি বক্তব্য রাখলেও সেদিন জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণায় সূচনা বক্তব্য রেখেছিলেন তৎকালীন সময়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ। মাইকে তার নাম ঘোষণা হওয়ায় তিনি কিছুটা বিব্রত হয়েছিলেন। হঠাৎ এ ঘোষণা তাকে কিছুটা অপ্রস্তুতও করেছিল। কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি যে বক্তৃতা করেছিলেন তা আজও স্মরণীয়। তিনি বলেছিলেন আওয়ামী লীগ যে সিদ্ধান্ত নেয় তাই ইতিহাস হয়ে থাকে। ৫২’র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৬’র ৬ দফা, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধ সবই আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত এবং ইতিহাস। এটি শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের অসংখ্য শাখা স্থানীয় ভাবেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যা ইতিহাস হয়ে আছে। আওয়ামী লীগ এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জনগণের আকাঙ্খা থেকে। জনগণের আকাঙ্খা থেকেই আওয়ামী লীগের জন্ম।
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমি আওয়ামী লীগকে সাধারণ গণ-মানুষের সংগঠনে পরিণত করবো। বঙ্গবন্ধু তখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সভাপতি মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। বঙ্গবন্ধু চষে বেড়ালেন সারা বাংলাদেশ। কৃষক, শ্রমিক আর মেহনতী মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিলেন আওয়ামী লীগকে। আওয়ামী লীগ হয়ে উঠলো বাংলার গণমানুষের সংগঠন। সংগঠনের সভাপতি পরবর্তীতে স্বীকার করেছিলেন তার জীবনে যতগুলি সাধারণ সম্পাদক ছিল তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুই শ্রেষ্ঠ। আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন অনেকেই কিন্তু আওয়ামী লীগ গতি পেয়েছিল বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ আর বঙ্গবন্ধু যখন একাকার তখন অনেকেই আওয়ামী লীগকে ছেড়ে চলে গেছেন। আবার অনেকেই ¯্রােতের বিরুদ্ধে চলতে অভ্যস্ত না হয়ে গা ভাসিয়েছেন সেনা শাসকদের ছায়াতলে। আওয়ামী লীগ যেমন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তেমনি রক্তও ঝরেছে বহু। শুধুমাত্র বাঙালির অধিকার আদায়ের কথা বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হয়েছেন। জেল খানায় নিহত হয়েছেন জাতীয় চার নেতা। জেল খাটতে গিয়ে অসুস্থ-পাগল হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। জীবন দিয়েছে বহু মানুষ। আর সাধারণ জীবন-যাপন থেকে বঞ্চিত হয়েছে আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মি। লক্ষ লক্ষ মানুষের রক্ত আর ঘামের ফসল আজকের এই আওয়ামী লীগ। যা তৈরি করেছে একটি অভুতপূর্ব অনুভূতির। আওয়ামী লীগ যখনই দুঃসময়ে পড়েছে তখনই শত শত নেতাকর্মি তাদের জীবন দিয়ে আদর্শ রক্ষা করেছে। শত ঝঞ্ঝা, শত দুর্যোগ আওয়ামী লীগকে দাবিয়ে রাখতে পারেনি। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ উঠে দাঁড়িয়েছে মাথা উঁচু করে। আজকের এই সুসময় অতীতে ছিল না। এই সুসময় এমনি এমনি আসেনি। ইতিহাস একদিনে সৃষ্টি হয়নি। রয়েছে হাজারো মানুষের বেদনার্ত হাহাকার। না পাওয়ার দুঃখ এবং বেদনা। নিজেকে বিসর্জন দেওয়ার অভুতপূর্ব দৃষ্টান্ত। তাইতো আজ আওয়ামী লীগ অপ্রতিদ্বন্দ্বী। আওয়ামী লীগ হয়ে আছে বাঙালি জাতির উত্থান-পতনের ইতিহাসের স্বাক্ষী। সেই ইতিহাসের মহান কারিগর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আর সেই ইতিহাস প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর করে চলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। রয়েছে নাম না জানা অসংখ্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর। যাদের কারণে চিরদিন বেঁচে থাকবে অনুভূতির আওয়ামী লীগ।
লেখক ঃ উপ-দপ্তর সম্পাদক,
বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ
০১৭১১-৯৪৪৮০৫