আইসিটিতে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: এপিকটা প্রেসিডেন্ট

আইসিটিতে নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশ: এপিকটা প্রেসিডেন্ট

সম্প্রতি শেষ হলো ‘এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যাওয়ার্ড ২০১৯’-এর (এপিকটা) ১৯তম আয়োজন। এতে টানা চতুর্থবারের মতো অংশ নিয়ে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক পদক ও সনদপত্র জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। 


এপিকটা, আইসিটি ও এ খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে কথা বলেন এপিকটা প্রেসিডেন্ট স্ট্যান সিং। তাতে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আইসিটি খাতে একসময় বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বিস্তারিত শাওন সোলায়মানের নেওয়া সাক্ষাৎকারে...

শেষ হলো এপিকটা-২০১৯। কেমন চ্যালেঞ্জ ছিল?

সত্যি কথা বলতে প্রচুর চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিলাম আমরা। পুরো আয়োজন নিয়ে প্রচুর কাজ করতে হয়েছে আমাদের। এ ব্যাপারে ভিনাসা (ভিয়েতনাম আইটি অ্যান্ড সফটওয়্যার অ্যাসোসিয়েশন) খুব দারুণ কাজ করেছে। শেষ পর্যন্ত পুরো আয়োজন সফলভাবে শেষ হলো। এর জন্য অংশগ্রহণকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। 

আপনার মতে এবারের আয়োজনের সব থেকে দারুণ দিক কী ছিল?

এবারই আমরা প্রথমবারের মতো স্টুডেন্টস সেশনের আয়োজন করেছিলাম। কোনো প্রতিযোগিতা নয়, শুধু তাদের নিজেদের মতো করে কিছুটা সময় কাটানোর আয়োজন করেছি আমরা। এতে করে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে দারুণ কিছু সময় পার করেছে। বেশকিছু শিক্ষার্থী নিজেরা নিজেদের মধ্যে গেমস খেলেছে। এ থেকে একটি আইডিয়া এসেছে যে, আগামীতে এপিকটাভুক্ত সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে স্টুডেন্স এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম করা যেতে পারে। 

এ আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রতিযোগিরা কী পেল বলে মনে করছেন?

যারা পুরস্কার পেয়েছেন, তারা তো নিজেদের উদ্যোগের একটি স্বীকৃতি পেয়েছেনই। কিন্তু যারা পুরস্কার বা সনদপত্র পাননি, তারাও একেবারে খালি হাতে ঘরে ফিরবেন না। সব সময়ই সব কিছুতে বিজয়ী আর পরাজিত থাকবে। কিন্তু এখান থেকে যে নেটওয়ার্কিং হবে, একে অপরের মধ্যে সংস্কৃতির যে আদান-প্রদান হবে সেটিও কি কম কিছু? একটা ভ্রমণ হল। ভ্রমণ না করলে আপনি জানবেন না যে অন্যরা কেমন। এমন আয়োজন প্রতিযোগী ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ইন্টার-পার্সোনাল স্কিল উন্নয়নে দারুণভাবে কাজ করবে। এ সকল অভিজ্ঞতা আপনাকে একজন ভালো মানুষে পরিণত করবে। 

তবুও এপিকটার স্বার্থকতা নিয়ে বিতর্ক আছে। পুরস্কারের আয়োজনের বাইরে এপিকটা আর কী করছে?

দেখুন, এপিকটা আসলে একটি পুরস্কার প্রদানের আয়োজন। প্রতি বছর আমাদের সদস্য দেশগুলোর আনাচেকানাচে যে ভালো উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়, সেগুলোকেই আমরা তুলে আনতে চাই। অনেকে এপিকটা থেকে অনেক বেশি কিছু আশা করেন, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এটার মূল আয়োজনই পুরস্কার দেওয়া। এপিকটাকে তার ভেতরে রাখাই ভালো হবে। এর বাইরে অন্যান্য বিষয়ে কাজ করতে হলে মূলত রাষ্ট্রগুলোকেই এগিয়ে আসতে হবে। পুরস্কার দেওয়া ছাড়াও নিজেদের মধ্যে বিজনেস ম্যাচিং, ইনভেস্টর পিচিং-এর মতো কিছু আয়োজনও এপিকটায় থাকে।
 
এপিকটায় ভারত নেই কেন?

একসময় ভারত এপিকটার সদস্য রাষ্ট্র ছিল, তবে এখন নেই। কেন এপিকটা থেকে তারা নিজেদের সরিয়ে নিলো আমরা ঠিক জানি না। হতে পারে যে, এপিকটা প্ল্যাটফর্মটি ঠিক ভারতের জন্য নয়, অথবা তাদের মনে হতে পারে যে, এ আয়োজন তাদের সঙ্গে ঠিক মানায় না। 

ভারতকে কি আবারও দেখা যেতে পারে এপিকটায়?

এশিয়ার প্যাসিফিক অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গেই থাকতে চায় এপিকটা। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আমরা কয়েক দফা যোগাযোগ করেছি। আমাদের দরজা সবার জন্য সব সময় খোলা। দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন, লাওস, নেপাল ও ভুটানের মতো দেশ এপিকটার সদস্য হতে বেশ আগ্রহ দেখিয়েছে। তাদের মতোই ভারতও চাইলে আবার আমাদের সদস্য হতে পারে। 

এপিকটার পরবর্তী আয়োজন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মালয়েশিয়ায়। আপনার অনুভূতি কি?

এটি খুবই আনন্দের সংবাদ যে, আগামীবার এপিকটার আয়োজক দেশ মালয়েশিয়া। আশা করি আমরা একটি সফল ও স্বার্থক আয়োজন উপহার দিতে পারবো। সে বছর ভিশন-২০২০ নামে মালয়েশিয়ার নিজস্ব আয়জনও রয়েছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড আইসিটি কংগ্রেস ও আসিয়ান শীর্ষ সম্মেলনের মতো অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল মালয়েশিয়া। ফলে এমন আন্তর্জাতিক সমাবেশ আয়োজনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে দেশটির। 

আপনার দেশ মালয়েশিয়ার আইটি খাতের উন্নয়ন নিয়ে জানতে চাই। 

প্রতিটি দেশের সরকারের নিজস্ব কিছু লক্ষ্যমাত্রা থাকে। মালয়েশিয়া সরকার অনেক আগে থেকেই আইসিটি খাতে নিজেদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ও সেই অনুযায়ী কাজ করে চলেছে। এখন সময় ডিজিটাল রিফরমেশনের। আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিল্পব, বিগ ডাটা, ব্লক চেইন, আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, অগমেন্টেড রিয়েলিটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছি। 

শেষ প্রশ্ন, আইসিটি খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে কীভাবে দেখেন? 

বিগত ১০ বছরে আইসিটি খাতে সত্যিকার অর্থেই দারুণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে দেশের সর্বশেষ প্রান্তে আইটি এবং আইসিটিকে নিয়ে গেছে দেশটির সরকার। আমি দেখেছি, সেখানকার অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এখন ইন্টারনেট, মোবাইল সংযোগ আছে। এসবের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে। পরিষ্কারভাবেই তারা আইসিটি খাতে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিচ্ছে। প্রতিদিন তা আরও জোরালো হচ্ছে। একদিন এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে আইসিটিতে বাংলাদেশই নেতৃত্ব দেবে।