‘আইএস টুপি’ কারাগার থেকে যায়নি

‘আইএস টুপি’ কারাগার থেকে যায়নি

আদালতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে হলি আর্টিসান মামলায় দণ্ডিত দুই আসামির মাথায় আইএসের চিহ্ন সম্বলিত টুপি কীভাবে এলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল কারা কর্তৃপক্ষ। আজ কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেদিন আইএসের টুপি কারাগার থেকে যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করে কারা কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি।

শনিবার সন্ধ্যায়  এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডেপুটি আইজি প্রিজন টিপু সুলতান।


তিনি বলেন, আইএসের চিহ্ন সম্বলিত টুপির বিষয়ে কারা কর্মকর্তাদের গাফিলতি নেই। কারাগার থেকেও টুপি সংগ্রহ করেনি আসামিরা। তবে কীভাবে আলোচিত গুলশানের হলি আর্টিসান মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশের মাথায় আইএস আদলে টুপি এলো তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাননি।

তিনি আরও বলেন, আমাদের তদন্ত কমিটি কারাগার থেকে আইএসের চিহ্ন সম্বলিত টুপি আসামিদের মাধ্যমে আদালতে যাইনি বলে নিশ্চিত হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার আদালতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে হলি আর্টিসান মামলার দণ্ডিত দুই আসামির মাথায় আইএসের চিহ্ন সম্বলিত টুপি দেখা যায়। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় আসামিদের কাছে কী করে ওই টুপি গেল, সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।

আলোচিত মামলাটির রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আব্দুল্লাহ আবুসহ অনেকেই এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।


আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও বলেছেন, বিষয়টির তদন্ত হওয়া উচিত।

জেলার মাহবুব আলম বলেন, রায়ের আগে কারাগার থেকে যাওয়ার সময় আসামিদের কারও মাথায় ওইরকম কালো টুপি ছিল না। রায়ের পর তারা ফিরলে তল্লাশি করা হয়েছিল, তখনও ওইরকম কালো টুপি পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রসিকিউশন পুলিশের উপকমিশনার জাফর হোসেন বলেন, তারা ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছেন। ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ওই টুপি আসামিরা সঙ্গে করে এনেছেন না আদালত চত্বরে কেউ তাকে দিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ওইদিন বিকেলে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করে কারা কর্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে ওইদিন আইজি প্রিজনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তফা কামাল বলেন, একজন অতিরিক্ত আইজিকে প্রধান করে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কারাগারের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। কমিটিকে পাঁচদিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথাও জানান তিনি।

তবে এ মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, আইএস কখনও টুপি ব্যবহার করত না। আইএসের কোনো টুপি নেই। তারপরও টুপিটি কীভাবে আসামিদের কাছে গেল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

যদিও গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মো. মাহবুব আলম বলেন, হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলা মামলার রায়ের দিনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিগ্যানসহ দুই জঙ্গির মাথায় যে টুপি ছিল সেটা কারাগার থেকেই আসছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

মাহবুব আলম বলেন, টুপিটা তার (রিগ্যান) পকেটেই ছিল। তখন টুপিটার ওপর আইএস আদলে লেখাটা ছিল না। পরে সে টুপি উল্টে পরে আদালত চত্বরে প্রবেশ করে তখন লেখাটা গণমাধ্যমে দৃশ্যমান হয়।

টুপিটা কি তবে কারাগার থেকে আসছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, টুপিটা তার পকেটেই ছিল। কারাগার থেকে আনার পথে ব্যাপক নিরাপত্তা থাকে। তখন আসলে বাইরে থেকে টুপিটা সরবরাহ করার সুযোগ নেই। তখন এটা ঘটেওনি।

তাহলে কি টুপি কারাগার থেকেই আসছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাইট, টুপিটা কারাগার থেকেই আসছে।’