অ্যাসাঞ্জ ইকুয়েডর দূতাবাসে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন: মরেনো

অ্যাসাঞ্জ ইকুয়েডর দূতাবাসে গুপ্তচরবৃত্তি করেছেন: মরেনো

বিশ্বখ্যাত প্রচার সংস্থা উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসকে ‘গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার করে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন ইকুয়েডরিয়ান প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনো।


ইকুয়েডর অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয় বাতিল করে দিলে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) ওই দূতাবাসের ভেতরেই গ্রেফতার হন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা।

যৌর নিপীড়নসহ নানা অভিযোগ মাথায় নিয়ে প্রায় সাত বছর যুত্তরাজ্যের ইকুয়েডর দূতাবাসের ভেতরেই রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন তিনি। আর এই সাত বছর ধরে তিনি এখানে বসে বসে ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মরেনো।

তবে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবী জেনিয়ার রবিনসন বলছেন, দূতাবাসে ডেকে এনে অ্যাসাঞ্জকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনা চাপা দিতেই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনছেন প্রেসিডেন্ট মরেনো। যা সত্য নয়।

মরেনো বলেছেন, আমাদের দূতাবাসে অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় বাতিল করার সিদ্ধান্ত অন্য কোনো জাতির কাছ থেকে প্রভাবিত হয়ে করা হয়নি। অ্যাসাঞ্জের বারবার রীতিনীতি লঙ্ঘন অনুসরণ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অ্যাসাঞ্জের শারীরিক অবস্থাও ভালো ছিল না এখানে।

ব্রিটিশ জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মরেনো দাবি করে বলেছেন, ইকুয়েডরের পুরানো সরকার ‘বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপকারীকে’ লন্ডনের দূতাবাসে থাকার সুযোগ করে দিয়েছিল।

মরেনো ইকুয়েডরের ক্ষমতায় আসেন ২০১৭ সালে। এরপরেই তিনি অ্যাসাঞ্জের আশ্রয় বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসার জন্য কাজ শুরু করেন।

এ নিয়ে মরেনো বলেন, প্রায় সাত বছর দূতাবাসে থাকার পর অ্যাসাঞ্জের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অস্থিতিশীলতার যেকোনো চেষ্টা ইকুয়েডরের জন্য একটি নিন্দনীয় কাজ। কারণ আমরা সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং প্রতিটি দেশের রাজনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

এসময় প্রেসিডেন্ট এও বলেন, গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র হতে পারে এমন জেনেও আমরা আমাদের ঘর বা ঘরের দরজা খুলে দিতে পারি না।

এদিকে, গ্রেফতার অ্যাসাঞ্জকে ‘যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠানোর’ বিষয়ের যৌক্তিকতা প্রমাণে দুই মাসের ভেতরে ওয়াশিংটনকে যুক্তরাজ্যে একটি মামলা করতে হবে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন>> ইকুয়েডর দূতাবাসেই জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ গ্রেফতার

৪৭ বছর বয়সী অ্যাসাঞ্জ ২০১২ সাল থেকে লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসের ভেতরে ‘বন্দি অবস্থায়’ ছিলেন। সুইডিশ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উত্থাপন করার পর তিনি এ দূতাবাসে আশ্রয় নেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল সেসময় থেকেই। এ নিয়ে কয়েক দেশের মধ্যে বিতর্ক ছিল।

অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ডে জন্ম নেওয়া জুলিয়ান পল অ্যাসাঞ্জ একজন প্রোগ্রামার, যিনি আলোচিত প্রচার সংস্থা উকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ‘গোপন নথি ফাঁস’ করে বিশ্বব্যাপী আলোচিত ও সমালোচিত।