অসহনীয় শব্দদূষণ

অসহনীয় শব্দদূষণ

বিয়েবাড়িতে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ করায় গত জানুয়ারিতে রাজধানীর গোপীবাগে নাজমুল হক নামের একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এক বছর পর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে ঝালকাঠিতে। গত ২ মার্চ গভীর রাতে পিকনিকের নামে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রতিবাদ করায় আবদুল জলিল হাওলাদার নামের একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এসব ঘটনাই বলে দেয়, দেশে শব্দদূষণ কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, বিভাগ ছাড়িয়ে এখন জেলা পর্যায়েও শব্দদূষণের মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছে। মানুষের হৃদকম্প বেড়েছে। উচ্চ রক্তচাপ, মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব এমন রোগির সংখ্যাও আশংকাজনক হারে বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় সারা দেশে শব্দদূষণ প্রতিরোধে এক সঙ্গে মাঠে নামছে পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও স্থানীয় প্রশাসন।

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, সেটা নিয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় আলোচনা হবে। শব্দদূষণ বিধিমালায় নীরব এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবল, রাতে ৪০ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবল, রাতে ৫৬ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ডেসিবল, রাতে ৬০ ডেসিবল, শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবল, রাতে ৭০ ডেসিবল রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এসব এলাকায় বিদ্যমান মাত্রার চেয়েও দ্বিগুণ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে বলছে, ভারত, থাইল্যান্ড, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সার্বক্ষণিক শব্দমাত্রা মনিটরিং নেটওয়ার্ক সিস্টেম চালু আছে। আমাদের দেশেও এ নেটওয়ার্ক চালু করা জরুরি। ২০০৬ সালে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা তৈরী করা হয়। কিন্তু সবকিছু বিধিমালা দিয়ে হয়না। এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা। যদি কঠোর আইনের আওতায় শব্দ দূষণকারীদের আনা যায় তাহলে শব্দ দূষণের কুপ্রভাব থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।