অলির নতুন প্ল্যাটফর্মকে স্বাগত জানালেন কাদের

অলির নতুন প্ল্যাটফর্মকে স্বাগত জানালেন কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটর্মকে স্বাগত জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে জামায়াতে ইসলামী নতুন রূপে এসেছে কিনা, তা দেখতে অপেক্ষায় করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক। গতকাল শুক্রবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। বর্তমান জামায়েত প্রসঙ্গে অলি আহমদের বক্তব্যের জবাবে ওবাবদুল কাদের বলেন, তারা কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করে? আর সেটা কতোটা করে, সেটা তাদের কার্যক্রমের উপর নির্ভর করবে। আসলে বাস্তবতাটা কি সেটা দেখতে হবে সরেজমিনে। তারা পরিবর্তিত কোন রুপ নিয়ে এসেছে কি না। এটা তাদের কার্যাক্রমের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হবে।

 এর জন্য অপেক্ষা করতে হবে। অলি আহমেদের নতুন প্ল্যাটফর্ম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আসুক, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে আসুক। নতুন প্ল্যাটর্মকে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাবো, আমরা এর বিরুদ্ধে নয়। নতুন প্ল্যাটফর্ম এসে রাজনীতিটা কি করছে সেটার উপর নির্ভর করছে আসলে তারা কি চায়। বরগুনায় প্রকাশ্যে সড়কে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা সরকারের বিচারহীনতার প্রমাণ বিএনপির এমন অভিযোগের বিষয়টি দৃষ্টি আকর্শন করলে কাদের বলেন, এই দেশে বিচারহীনতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিএনপি। তাদের মুখে এই কথা শোভা পায় না। আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহের জন্য জেলা-উপজেলায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, আমরা সদস্য সংগ্রহ শুরু করে দিয়েছি। নতুন সদস্য সংগ্রহ করা হবে, আর যারা আগে আছেন তাদের নবায়ন করতে হবে। আমাদের পার্টির সভাপতির নির্দেশক্রমে আমি সকল জেলা উপজেলার নেতাদের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন বই সংগ্রহ কারার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছি।

আওয়ামী রীগের এবারের সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যুদ্ধাপরাধী জামাত পরিবারের সংশ্লিষ্ট থাকলে নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, গত বছর আমরা সদস্য সংগ্রহ অভিযান চালিয়েছি এবং ভালো ভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শেষ হওয়া পর্যন্ত আমাদের কাছে এধরণের কোন অভিযোগ পরে নি।এবারকার নির্বাচনে অনেক নীবনরা কাজ করেছে। আমরা এবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনে যারা অংশ নিয়েছে তাদের সদস্য করবো। অন্যান্য দলের কাউকে সদস্য করার ব্যপারে আমরা কোন সিদ্ধান্ত নেই নি। তবে যুদ্ধাপরাধীদের ছেলে, এসব বিষয়ে গুলো স্টিকলি দেখা হবে। তিনি বলেন, আমরা যাকে সদস্য করবো তার বিষয়টা দেখবো। সে কি করতো।

 তার কোন ক্রিমিনাল অফেঞ্জ আছে কি না, কোন সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে যুক্ত আছে কি না। সেটাকে আমরা মূল বিবেচনায় নিব। সে আসলে কে সেটা আমরা দেখতে যাবো। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর তার বাবা বা পরিবার কি ছিল সেটা নয়। তার বাবা মা একদম নিকট আত্মিয়ের বিষয়টা আলাদা। এই বিষয়টা আমরা স্টিকলি দেখবো। গত ১৩ মে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর থেকেই চলছে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতাদের আন্দোলন এবিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের ব্যাপারে আমাদের চারজন সহকর্মীকে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা দায়িত্ব দিয়েছেন। ছাত্রলীগ সম্পর্কে আপনারা যদি কিছু জানতে চান যারা দায়িত্ব প্রাপ্ত তারা জবাব দিবেন। যদি এই চারনেতা ব্যর্থ হন তাহলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কি পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা সফল কি ব্যর্থ তার বিচার প্রধানমন্ত্রী করবেন৷ আমি নিজেও এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু একটা জানি না, অসুস্থ হয়ে বিদেশে ছিলাম।

 এ বিষয়ে অনেক কিছু আমার জানা নাই। দায়িত্ব¡প্রাপ্ত নেতারা ভালো বলতে পারবেন। ছাত্রলীগের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের চার নেতা হলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএমমোজাম্মেল হক ও আফম বাহাউদ্দিন নাছিম। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুস সবুর, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ।