অর্থ পাচার

অর্থ পাচার

মুদ্রাপাচার শুধু একটি দেশের অর্থনীতিরই ক্ষতি করে না, দেশটির উন্নয়ন প্রচেষ্টাকেও ব্যাহত করে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমাদের গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হতে দেখা যায়। কর ফাঁকি, সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার এবং সস্তা শ্রমের সুবাদে অসৎ ব্যবসায়ীরা যে মুনাফার পাহাড় গড়ে তুলছে তার এক বড় অংশই পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে। ব্যাংক ঋণ নিয়ে লোপাট করতে তা পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিদেশে। দেশে কাঙ্খিত বিনিয়োগ হয় না, কর্মসংস্থান বাড়ে না, দারিদ্র্য পিছু ছাড়ে না- এমনি হা পিত্যেশ আমাদের বরাবরের। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের আর্থিক প্রণোদনা সহ বহু রকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়, তাতেও বিনিয়োগ গতি পায় না। সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয় আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের অতি বা কম মূল্যায়নের মাধ্যমে। অর্থাৎ আমদানি করা পণ্যে বেশি দাম দেখিয়ে একটি অংশ বিদেশে পাচার করা হয়।

আবার রপ্তানি পণ্যে কম দাম দেখিয়ে একটি অংশ বিদেশের ব্যাংকে জমা করা হয়। এক শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার কিংবা রাজনীতিবিদরা বিদেশে অর্থ পাচার করেন। অর্থ পাচারের আরেকটি প্রধান উপায় হচ্ছে হুন্ডি ব্যবসা। বিদেশে থাকা কর্মিরা সেখানে থাকা হুন্ডি ব্যবসায়ীকে অর্থ দেন। হুন্ডি ব্যবসায়ীর স্থানীয় এজেন্টরা কর্মির পরিবারকে টাকা দেন। পাচারকারীরা এখানে এজেন্টদের টাকা দেন এবং বিদেশে ডলার বা অন্য কোনো বিদেশি মুদ্রা নেন। শিল্পের কাঁচামাল মূলধনী যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস আমদানির নামে ব্যাক টু ব্যাক ভুয়া এলসি খুলে জালিয়াতির মাধ্যমে গত কয়েক বছরে ব্যাংক খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। অর্থ পাচার রোধ করা না গেলে দেশে বিনিয়োগ গতি পাবে না। উন্নয়ন মূখ থুবড়ে পড়বে। শুধু তাই নয়, অর্থ পাচারের এমন সুযোগ দেশের অর্থনীতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। একদিকে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে হবে, অন্যদিকে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পাচাররোধে রাষ্ট্র্রীয় সক্ষমতাও দ্রুত বাড়াতে হবে।