* নতুন বই এসেছে ১০২টি

অমর একুশে গ্রন্থমেলা বেচাকেনায় প্রাণ পেয়েছে বইমেলা

অমর একুশে গ্রন্থমেলা বেচাকেনায় প্রাণ পেয়েছে বইমেলা

আলী আজম সিদ্দিকী : ক্যালেন্ডারের পাতায় ফেব্রুয়ারি এক দুই তিন করে বাড়ার সাথে সাথে স্বরুপে ফিরছে অমর একুশে বইমেলা। গতবছরের মত এবারও বইবিক্রিতে নতুন রের্কড গড়ার প্রত্যাশা করছেন মেলার আয়োজকরা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার গ্রন্থমেলার অষ্টম দিনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে লোক সমাগম উল্লেখযোগ্যহারে কম থাকায় বেচাকেনাতেও এর প্রভাব পড়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার ভয় ঢুকে যায় লেখক-প্রকাশকদের মনে। কিন্তু তাদের সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিলো শুক্রবার এবং শনিবারের ছুটির দু’দিন। আবার বইমেলায় আগের আমেজ। বরং অন্যসময় ছুটির দিন শেষে বইমেলায় ভিড় কম থাকলেও  রোববার তুলনামুলক বেশি উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায় এবারের বইমেলায়।

গতকাল রোববার ছিলো অমর একুশে গ্রন্থমেলার ১১ম দিন। মেলা যথারীতি বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে। মেলায় নতুন বই এসেছে ১০২টি। বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘রুশ বিপ্লবের শতবার্ষিকী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইমতিয়ার শামীম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ডা. সারওয়ার আলী ও সৈয়দ আজিজুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক পবিত্র সরকার। প্রাবন্ধিক বলেন, একশ বছর আগে এই পৃথিবীর একটি দেশে এক বিপ্লব হয়েছিল, যার দিকে এখনও আমাদের ফিরে তাকাতে হয়, যা এখনও আমাদের উদ্দীপ্ত করে।

আলোচকবৃন্দ বলেন, বিশ্বসভ্যতার একটি যুগান্তকারী ঘটনা ছিল ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় বাঙালির যে সংগ্রাম তার পেছনেও প্রেরণাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে এ বিপ্লব। অসাম্প্রদায়িক ও শোষণমুক্ত দেশ গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখি তার প্রেরণাও আমরা পাই রুশ বিপ্লব থেকেই। আজ বিশ্ব প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পরিমন্ডলে আদর্শহীনতার যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবেলায় রুশ বিপ্লব আমাদের পথ দেখাতে পারে। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক পবিত্র সরকার বলেন, পৃথিবীতে শ্রেণিবিভক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের বিপ্লবের ইতিহাস রয়েছে। তার ধারাবাহিকতাতেই ১৯১৭ সালে মহান রুশ বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু সে বিপ্লব শুধু রুশ দেশেই আবদ্ধ থাকেনি, সমগ্র পৃথিবীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিচালনা করেন আবুল ফারাহ্ মো. তোয়াহার পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর’, মুজতবা আহমেদ মুরশেদের পরিচালনায় ‘স্বভূমি লেখক শিল্পী কেন্দ্র’ এবং মো. শহিদুল্লাহর পরিচালনায় ‘সারেগামাপা সঙ্গীত পরিষদ’।