অমর একুশে গ্রন্থমেলা ছড়িয়ে দাও

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ছড়িয়ে দাও

আতাউর রহমান মিটন : শোকের মাস ফেব্রুয়ারি বিদায় নিতে চলল। মহান ভাষা শহীদদের আত্মদানের চেতনায় আপ্লুত হওয়ার পাশাপাশি এবারের ফেব্রুয়ারি আমাদের হৃদয়ে শোকের মাতম জাগিয়ে দিয়ে গেল। চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াল আগুন গিলে খেল মা ও শিশুসহ প্রায় ৭০ জনকে। এখনও হাসপাতালের বিছানায় মরণ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে অনেকেই। কেউ কেউ শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে এখনও!একটার পর একটা শোকার্ত ঘটনার মধ্যেই আমরা পার করলাম বিডিআর বিদ্রোহের এক দশক। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত বিদ্রোহে প্রায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছিল। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল এই হত্যাকান্ড। অনেকেই বিশ্বাস করেন এটা নিছক কোন অভ্যন্তরীণ ব্যাপার নয়, বরং এটা সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র হিসেবেই এই বিদ্রোহ উসকে দেয়া হয়েছিল। নিঃসন্দেহে এই ঘটনা আমাদের জাতির জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। সরকার এই ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় নিয়ে এসেছে। আশাকরি, প্রকৃত অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে।

চকবাজার দুর্ঘটনা আর বিডিআর বিদ্রোহ সম্পূর্ণ আলাদা দুটি বিষয়। কিন্তু সাধারণের কাছে উভয়ক্ষেত্রেই একটা মিল লক্ষ্যণীয়। সেটা হচ্ছে, দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা। নিরাপত্তা নিñিদ্র করার ব্রত নিয়ে দায়িত্ব পালনকারীদের উদাসীনতা যেমন বিডিআর বিদ্রোহের নামে নৃশংস হত্যাকান্ডের সুযোগ তৈরি করেছিল, তেমনি চকবাজারেও বিস্ফোরক মজুদ এর আইন কঠোরভাবে মানা হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব যাদের উপর ন্যস্ত, তাদের উদাসীনতার কথাও এখন আলোচনায়। অর্থাৎ যার যা করার কথা, যার উপরে যে দায়িত্ব সেই দায়িত্ব দিনের পর দিন সুষ্ঠুভাবে পালন না করায় ভয়াবহ ঘটনাগুলোর জন্ম হয়েছে বলে সাধারণের বিশ্বাস। দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণেই একজন মানুষ অস্ত্রসহ বিমানে উঠে যেতে পেরেছে এবং যাত্রীদের জিম্মি করতে সমর্থ হয়েছে। চৌকষ প্যারা কমান্ডোদের দক্ষতায় সরকার সকল যাত্রীদের অক্ষত উদ্ধার করতে পেরেছেন। যদিও এই ঘটনাটিও আরেকটি ভয়াবহ শোকের ঘটনায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি ছিল। ¯্রষ্টা সহায়, আমরা সেই অসহনীয় শোকের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি!
শোকের মাস ফেব্রুয়ারিতে আমরা শহীদদের আত্মার প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ দিবস পালন করি। আমরা খালি পায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই। আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা আয়োজন করি। উদ্দেশ্য, শহীদদের আত্মদানকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাদের আত্মদানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামীদিনের জন্য প্রত্যয় গ্রহণ করা। বিশেষ করে, আমাদের নবীন প্রজন্ম যেন শহীদদের আত্মদান থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত রাখার প্রেরণা পায় সেটাই আমাদের কামনা। সেই কারণেই সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানাবিধ কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে। বছর বছর এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের প্রবণতা বাড়ছে। নিঃসন্দেহে এটা ইতিবাচক।
ভাষা শহীদদের স্মরণে পুরো ফেব্রুয়ারি মাসে দেশজুড়ে যে আয়োজনগুলো হয়ে থাকে তাদের মধ্যে প্রভাতফেরীর পরেই রয়েছে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ বা ‘বইমেলা’র স্থান। আমরা সবাই জানি, পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে এই ‘বই মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়। বইপ্রেমীদের ভিড়কে একটু আরামপ্রদ করার লক্ষ্যে ২০১৪ সাল থেকে বাংলা একাডেমির মুখোমুখি শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা সম্প্রসারিত হয়েছে। মেলার কলেবর প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেলেও এখনও ভিড় কমেনি। কারণ, বইমেলাকে মানুষ তাদের প্রাণের মেলায় পরিণত করেছে। কবি, সাহিত্যিক ছাড়াও অনেকেই আছেন যারা এই একমাস প্রতিদিন বইমেলায় এসেছেন। অনেকেই আসেন বেড়াতে, আবার বেড়াতে বেড়াতেই কিনে ফেলেন পছন্দের বই। মেলায় এসেছেন কিন্তু একটাও বই না কিনে বাড়ি ফিরেছেন এমন মানুষের দেখা মেলা ভার!
আমরা সবাই জানি, তদানীন্তন স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ, ্বর্তমানে মুক্তধারা প্রকাশনী নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী চিত্তরঞ্জন সাহা ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সে সময়ের বর্ধমান হাউজ বা আজকের বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের বটতলায় চট বিছিয়ে মাত্র ৩২টি বই নিয়ে এই বইমেলার সূত্রপাত করেছিলেন। যতদূর জানা যায় ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি (চিত্তরঞ্জন সাহা) একাই বইমেলা চালিয়ে যান। ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকীর উৎসাহে এবং নেতৃত্বে বাংলা একাডেমি এই মেলার সাথে যুক্ত হয়। পরের বছর, ১৯৭৯ সালে মেলার সাথে সরাসরি যুক্ত হন বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি। বাবু চিত্তরঞ্জন সাহা এই সমিতিরও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ১৯৮৩ সালে জেনারেল এরশাদ সরকারের প্রণীত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদের একটি মিছিলে পুলিশ ট্রাক উঠিয়ে দিয়ে দীপালি সাহা, জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব আর কাঞ্চনসহ অনেককে হত্যা করলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, সেই উত্তাল পরিস্থিতির কারণে সে বছর বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়নি।
বইমেলা আজ বাঙালির প্রাণের মেলায় পরিণত হয়েছে। বছর বছর মেলার আয়তনই শুধু বাড়ছে না, বাড়ছে বই প্রকাশের সংখ্যা। মোবাইল ফোনের কাছে দাসত্ব মেনে নেয়া প্রজন্মের ছেলেমেয়েরাও এখনও বই পড়ে। নতুন বইয়ের গন্ধ ওদের কাছে এখনও ভালবাসার লাল গোলাপের মতই সুগন্ধিমাখা।
মহান ভাষা শহীদদের আত্মদানকে শ্রদ্ধা জানানো এবং অনুপ্রেরণা যোগাতে বইমেলা আয়োজনের পাশাপাশি ১৯৭৬ সাল থেকে প্রবর্তন করা হয় ‘একুশে পদক’। এটিই বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, গবেষণা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১৯ সালেও দেশের বিশিষ্ট ২১জন নাগরিককে ‘একুশে পদক’ প্রদান করা হয়েছে। শিল্পী নিতুন কুন্ডু’র ডিজাইনে ১৮ ক্যারেটের সোনা দিয়ে তৈরি ৩৫ গ্রাম ওজনের একটি পদক, একটি সম্মাননা সনদ এবং ২ লক্ষ টাকা দিয়ে সরকার ‘একুশে পদক’ প্রাপ্তদের স্বীকৃতি জানায়। শুরুতে এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ২৫ হাজার টাকা। যেহেতু এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার তাই অর্থমূল্য দিয়ে এর বিচার করা যাবে না। এটি অন্যতম অমূল্য এক পুরস্কার। ২০১৯ সালের একুশে পদক বিজয়ীদের এই সুযোগে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। আপনাদের কীর্তি নতুন প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। আপনাদের আদর্শের পথ ধরেই ওরা গড়ে তুলবে সমৃদ্ধ আগামী!
বাঙালিরাই পৃথিবীর একমাত্র জাতি যারা মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দিয়ে রাজপথ রাঙিয়েছে। আমাদের সেই মহান কীর্তি আজ অনুপ্রেরণা হয়ে সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষকে মায়ের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। পৃথিবীর দেশে দেশে একুশে ফেব্রুয়ারিতে উদযাপিত হচ্ছে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’। উচ্চারিত হচ্ছে, রফিক, শফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ শহীদদের নাম। বাংলাদেশের নাম উচ্চারিত হচ্ছে শ্রদ্ধায় ও সংগ্রামের প্রেরণায়। আমার ভাইদের রক্তে রাঙানো গৌরবে আজ গর্বিত হচ্ছি আমরা সবাই। সে কারণেই আমরা কখনই আমাদের ভাইদের আত্ম্দানের কথা ভুলবো না। সংকট, ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে এগিয়ে যাবার মন্ত্র আমরা শিখি একুশের কাছে।

গৌরব, সংগ্রাম ও অনুপ্রেরণার মহিমায় ভাস্বর এই মহান একুশের চেতনা মানে, ‘মাথা নত না করা’। একুশের চেতনার হাত ধরেই অর্জিত হয়েছে আমাদের গৌরবময় স্বাধীনতা। একুশের চেতনাতেই আমরা স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে পুনরুদ্ধার করেছি গণতন্ত্র। একুশের চেতনাতেই বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে উন্নত রাষ্ট্র হওয়ার পথে। ভাষা শহীদদের আত্মদানের প্রেরণাতেই গত ররিবার চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে শুরু হলো দেশের প্রথম টানেলের খননকাজ এবং দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ ১৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে নতুন উচ্চতায় উন্নীত হলো। জানামতে, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’টি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে প্রথম সড়ক টানেল। সরকারের এই মেগা প্রকল্পগুলো নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অনুপ্রেরণায়। কিন্তু আমাদের সব সময় মনে রাখতে হবে বাইরের উন্নতি যেন ভেতরের ধস না হয়।

উন্নয়নের জন্য মেগা প্রকল্প করা হচ্ছে এবং আরও করা হবে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু বলতেন, সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হলে সোনার মানুষ চাই। এই সোনার মানুষ আকাশ থেকে টুপ করে এসে পড়বে না। একুশের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার সেই সেনানীদের গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য মনের ভেতরে বাতি জ্বালাতে হবে, দূর করতে হবে অন্ধকার। আজকের শিশু-কিশোরদের মনে আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তি সংগ্রাম, স্বৈরশাসনবিরোধি সংগ্রামের প্রেরণা জাগিয়ে তুলতে হলে কেবল ঢাকায় একটি বইমেলা আয়োজন যথেষ্ট নয়। চেতনার জাগরণ ছড়াতে হলে সরকারি উদ্যোগে ও পৃষ্ঠপোষকতায় সারাদেশে, কমপক্ষে উপজেলা পর্যায়ে ন্যুনপক্ষে সপ্তাহব্যাপী বইমেলা আয়োজন করতে হবে। কেবল ঢাকা শহরটাই বাংলাদেশ নয়! আবার সকলের পক্ষে ঢাকার বইমেলায় অংশ নেয়াও সম্ভব নয়। বাংলা একাডেমির অমর একুশে গ্রন্থমেলা আমাদের মধ্যে প্রেরণার যে ঢেউ জাগিয়ে তোলে সেই ঢেউয়ের দোলায় আন্দোলিত হয়েই সারাদেশে আমি ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ আয়োজনের প্রস্তাব করছি। চেতনার আলো ঘরে ঘরে জ্বালানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

ভাষা আন্দোলনের এই মাসে আমি ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুরে স্থানীয় প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ এর উদ্যোগে এবং মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলাধীন পদ্মাপাড় সংলগ্ন প্রত্যন্ত দক্ষিণ চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় কেডিসিবি ক্লাব এর উদ্যোগে আয়োজিত বইমেলায় অংশ নিয়েছি। উভয় এলাকাতেই এই মেলাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আমি যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা প্রত্যক্ষ করেছি তা আমার আত্মবিশ্বাসকে বলিষ্ঠ করেছে। উভয় এলাকাতেই আমি দেখেছি মেলা উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। আলোচনা হচ্ছে ভাষা শহীদদের আত্মদান ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার উপায় সম্পর্কে। মানুষ কথা বলছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। এই ধরনের আয়োজন যত বেশি হবে জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও অন্ধত্ববাদের বিরুদ্ধে মানুষ ততই জেগে উঠবে। বিকশিত হবে মুক্তচিন্তা।

সারা বাংলাদেশে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ আয়োজনে সরকারকে এগিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি। বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সারাদেশেই এমন বইমেলা আয়োজন করা সম্ভব। টাকার অভাব নয়, এর জন্য উদ্যোগের অভাব বিদ্যমান। ভাষা শহীদদের চেতনা থেকেই উৎসারিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এগিয়ে নিতেই তাই আমাদের সকলকে ভাবতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বইয়ের চেয়ে ভাল কোন বন্ধু নেই। বই পড়ার কোন বিকল্প নেই। বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না। বই পড়ার জাগরণ তৈরীতে তাই বইমেলার আয়োজন বাড়াতে হবে। কোটচাঁদপুরের প্রগতিশীল নাগরিক সমাজ কিংবা হরিরামপুরের কিডিসিবি ক্লাব এর মত স্বপ্রণোদিত মুক্তিসংগ্রামীরা সারাদেশেই ছড়িয়ে আছেন। বাংলাদেশের অনেক এলাকাতেই স্থানীয় উদ্যোগে বইমেলার মত মিলনমেলা আয়োজন করা হচ্ছে। সরকারের কাছে অনুরোধ, দেশের এই স্বেচ্ছাব্রতী সংগ্রামীদের পাশে দাঁড়ান, তাঁদের কর্মকান্ডে সহযোগিতা করুন। দেখবেন, ওরাই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে। শহীদের আত্মদান বৃথা যেতে পারে না!
লেখক : সংগঠক-প্রাবন্ধিক
[email protected]
০১৭১১-৫২৬৯৭৯