অভিবাসী শ্রমিকরা ঝুঁকিতে

অভিবাসী শ্রমিকরা ঝুঁকিতে

বিদেশে শ্রমবাজারগুলো থেকে কোন সুখবর নেই বললেই চলে। আশা করা হচ্ছিল মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে কর্মি নেওয়া আবার শুরু হবে। কিন্তু তা হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে সুসংবাদ নেই। বরং অবৈধ তকমা নিয়ে ফিরে আসছে বাংলাদেশিরা। মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও জনশক্তি রপ্তানিতে মন্দার ভাব তৈরি করেছে। চলতি বছরের ১৮ দিনে এক হাজার ৮৩৪ জন বাংলাদেশি সৌদি আরব থেকে ফিরলেন। যারা ফিরলেন তাদের অনেকেই ধারদেনা করে বা শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে দেশটিতে গিয়েছিলেন। বেশির ভাগ লোককেই যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই ফিরতে হয়েছে। ২০১৯ সালে ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্যানুযায়ী ২০১৯ সালে বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মি দেশে ফিরেছেন। ফেরত আসা প্রবাসীদের অভিযোগ, তাদের প্রত্যেককে নানা স্বপ্ন দেখিয়েছিল দালাল ও রিক্রুটিং এজেন্সির লোকজন। কিন্তু সৌদি আরব গিয়ে নানা সমস্যায় পড়েন তারা।

 অনেকে বেতন পাননি। অনেকে সৌদি আরবে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যে ফেরত এসেছেন। তারা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় আছেন। মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশি আছেন দুই লাখের বেশি। ব্যাক ফর গুড কর্মসূচির সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর পরই মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। মালয়েশিয়ায় প্রতিটি কারখানা, কোম্পানি, মার্কেটসহ গ্রাম ও শহরে জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে। পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার অবৈধ প্রবাসী এরই মধ্যে গ্রেফতার হয়েছে। এভাবে কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় সে জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত। বিশেষ করে কোন ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে যেন অসাধু এজেন্সিগুলো শ্রমশক্তি পাঠাতে না পারে, সেদিকেও সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে।