অবশেষে ফিরলেন ক্রিকেটে, হলেন সভাপতি

অবশেষে ফিরলেন ক্রিকেটে, হলেন সভাপতি

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে ২০০০ সালে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। যদিও নিজেকে সব সময়ই নির্দোষ দাবি করে এসেছিলেন তিনি। অবশেষে ২০১২ সালে অন্ধ্র প্রদেশ হাইকোর্ট আজহারুদ্দিনের ওপর থেকে আজীবনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন। এরপর থেকেই ক্রিকেট প্রশাসনে নিজেকে যুক্ত করার লড়াই শুরু হয় ভারতের সাবেক অধিনায়কের।

অবশেষে সফল হলেন তিনি। হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচিত সভাপতি হলেন মোহাম্মদ আজহারুদ্দিন। নির্বাচনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হলেন তিনি। ১৪৭ খোট পেয়ে নির্বাচিত হন আজহারুদ্দিন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশচাঁদ জৈন পেয়েছেন ৭৩ ভোট। অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দিলীপ কুমার পেয়েছেন, মাত্র ৩ ভোট।

হায়দরাবাদের ক্রিকেট রাজনীতিতে গত দু–তিনদিন ধরেই হাওয়া ছিল আজহারুদ্দিনের পক্ষে। সেই হাওয়ায় তার প্রতিপক্ষ শিবির বলতে গেলে উড়ে গেলো। হায়দরাবাদ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হয়ে ক্রিকেট জীবনের অন্য অধ্যায়ের সূচনা ঘটালেন আজহারুদ্দিন।

১৯৮৪-৮৫ সালে নিজের অভিষেকের প্রথম তিন ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেই যে মিডিয়ার শিরোনাম হওয়া শুরু করেছিলেন তিনি, এরপর থেকেই আর কখনো নিউজের বাইরে ছিলেন না। খেলেছেন মোট ৯৯ টেস্ট এবং ৩৩৪ ওয়ানডে। ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৪৭ টেস্ট এবং ১৭৪ ওয়ানডে ম্যাচে। আজহারুদ্দিনকেই বলা হয়, ভারতের ইতিহাসে প্রথস সাহসী এবং সফল অধিনায়ক।

রাজনীতিতেও নাম লিখেছেন আজহারুদ্দিন। ২০০৯ সালে তিনি যোগ দেন ভারতীয় কংগ্রেস পার্টিতে। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছিলেন পার্লামেন্ট মেম্বার।

সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর আজহারুদ্দিন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘খুবই সাধারণ। ক্রিকেট জীবনে সেঞ্চুরির পরও কি আমাকে কখনও বাড়তি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখেছেন? গত তিন বছরে হায়দরাবাদে ক্রিকেট খেলা চলেছে ঠিকই; কিন্তু খুবই অগোছালোভাবে। আইপিএলের কথাই ধরুন। হায়দরাবাদের কতজন ক্রিকেটার আইপিএলে খেলে? গত একমাস ধরে নির্বাচন জেতার প্রস্তুতি চলছিল। আজ শেষ হল। আমার দলের সব সদস্যকে বলে দিয়েছি, সবার আগে হায়দরাবাদ ক্রিকেটের উন্নতি। তারপর অন্য সব।’