অপুষ্টি দূরীকরণ

অপুষ্টি দূরীকরণ

দেশ খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণ। দেশে অপুষ্টির মাত্রাও কমেছে। কিন্তু এখনো ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। অচেতনতা ও বৈচিত্র্যহীন খাদ্যের কারণে দেশে এখনো বিপুল সংখ্যক মানুষ অপুষ্টির শিকার। দেশে এখন দরকার নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি মানুষের অধিকার। এটা নিশ্চিত করার জন্য সরকার দরিদ্র বান্ধব বেশ কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা নাওকি মিলামিগুচি বলেন, বাংলাদেশে ১৯৯০ সালের তুলনায় অপুষ্টি ৪৯ শতাংশ কমেছে। ধান উৎপাদন তিনগুণ বেড়েছে। চরম দারিদ্র্যে থাকা মানুষও কমেছে। তারপরও ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ অপুষ্টিতে আছে। এ দেশের নারীরা দুই ধরনের অপুষ্টির চাপে আছে। এদিকে ডব্লিউ এফপি’র এক জরিপ তুলে ধরে বলা হয়, দেশে প্রায় ৫০ ভাগ কন্যা শিশু অপুষ্টিহীনতায় ভুগছে।

আর ফাও’র মতে, এমডিজি বাস্তবায়নকালে বাংলাদেশে খর্বতা, কৃশতা ও কম ওজনসম্পন্ন শিশুর সংখ্যা কমলেও বিশ্বে অনুষ্ঠিত অপুষ্টির হার বাংলাদেশে সর্বোচ্চ। নারী ও কন্যা শিশুদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ, নীতিমালা অনুযায়ী সকল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন নিশ্চিত করা, যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় খাদ্য সহ সবক্ষেত্রে যথাযথ পূর্ব প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং বরাদ্দ অনুযায়ী উপকারভোগীদের খাদ্য সামগ্রী ও নগদ অর্থ প্রদানসহ সবক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষুধা-দারিদ্র্য রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। খাদ্য অধিকার একটি মানবাধিকার। অন্যান্য মানবাধিকার নিশ্চিত করতে খাদ্য অধিকার সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে।