অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন

অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন

দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ক্রমাগত ভাঙছে। শুধু তা-ই নয়, নদীর পাড় থেকে বহুদূরে অবস্থিত কৃষি জমিও ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদী গর্ভে। নদী ভাঙন দেশের একটি বড় সমস্যা। বেশি জনসংখ্যা ও কৃষি স্বল্পতা আমাদের দেশে এ সমস্যাকে আরও প্রকট করে তুলছে। নদী ভাঙন রোধের কাজটি অত্যন্ত কঠিন। ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পাড়ের ভূমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। নদী ভাঙনের জন্য যে মানুষও দায়ী, তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় না। মানুষের যেসব কর্মকান্ডের জন্য নদী ভাঙন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে, সেসব বন্ধে নেওয়া হয় না কার্যকর পদক্ষেপ। নদীর পাড় ভাঙার একটি বড় কারণ হলো অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন। গণমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় এই অবৈধ বালু উত্তোলনের চিত্রটি। নদীর পাড় ভাঙছে কৃষি জমিও কমছে। এতে সেখানকার কৃষকরা ভূমিহীন দিনমজুর হয়ে পড়ছেন।

যথেচ্ছ বালু উত্তোলন পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর এর যে ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে, তা দেখার যেন কেউ নেই। কারণ বালু উত্তোলনের কর্মকান্ডে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জড়িত থাকে ‘প্রভাবশালী লোকজন’। ফলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল মহল এ বিষয়টিকে এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করে। এমন অবস্থায় অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন এবং নদী দখল প্রতিরোধ করবে কে? বস্তুত এ দুর্বৃত্তপনা বন্ধে সবার আগে প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা, দৃঢ়তা ও আন্তরিকতা। মাঝে মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু ব্যবস্থা নেয়া হয় বটে। কিন্তু শৈথিল্যের কারণে এবং নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির অভাবে অচিরেই পরিস্থিতি আগের রূপ ধারণ করে। অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা যেই হোক, তাদের উচ্ছেদ করতে হবে দ্বিধাহীন চিত্তে। নতুবা এদের দ্বারা পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি চলতে থাকবে অব্যাহতভাবে। এভাবে আমাদের জনগণ, ফসলের ক্ষেত, জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে বসে থাকা উচিত হবে না।