অপরিকল্পিত উন্নয়নে চলনবিল সংকুচিত হয়ে আসছে

অপরিকল্পিত উন্নয়নে চলনবিল সংকুচিত হয়ে আসছে

আব্দুল মান্নান পলাশ, চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি: সময়ের আগ্রাসনে পাবনার চলনবিলের বিশাল জলরাশি ক্রমশ:ই সংকুচিত হয়ে আসছে। অপরিকল্পিত পরিকল্পনা ও উন্নয়ন এই বিলের পানিসম্পদ বিপন্ন হয়ে পড়েছে।জানা গেছে, অনেক সৃষ্টি ও ধ্বংসের সুখ-দুঃখ নিয়ে আজও টিকে আছে সমৃদ্ধতম জলাভূমি খ্যাত চলনবিল। অনেকগুলো ছোট ছোট বিলের সমষ্টি দেশের সর্ববৃহৎ এ বিলটি এখন শুকনো মৌসুমের আগেই পানি শূন্যতায় ধুকছে। অথচ বর্ষাকালে চলনবিল একাকার হয়ে প্রায় ৩৬৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হতো।বিলটি রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলার অংশ বিশেষ এলাকাজুড়ে অবস্থান করছে। চলনবিলের দক্ষিণ-পূর্বে পাবনার নুননগরের কাছে অষ্টমনীষা, উত্তর সীমানা সিংড়ার পূর্ব থেকে ভাদাই নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এখনও। সব মিলিয়ে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, বড়াইগ্রাম, গুরুদাসপুর, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, সিংড়া, উল্লাপাড়া, আত্রাই, উপজেলার অংশবিশেষ জুড়ে বিলটির এখনকার অবস্থান। তবে নানামুখী সংকটের কারণে বিলটি তার অতীত যৌবন হারাতে বসেছে। বর্তমানে বিলটি দ্রুত ভরাট হয়ে আসছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত দেড়শ’ বছরে চলনবিল তার অবস্থান থেকে অন্তত ১৯ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণে সরে গেছে। প্রতি বছর গঙ্গা থেকে পলি এসে পড়ায় এমনটি হয়েছে। বিভিন্ন পুনরুদ্ধার কর্মসূচির জন্য ১৯৫০ সালে বিলের আয়তন আরো কমে দাঁড়ায় মাত্র ২৫ দশমিক ৯ বর্গকিলোমিটারে। সর্বশেষ ১৯৮৭ সালের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রতিবেদন অনুসারে, শুকনো মৌসুমে মানুষের তৈরি কিছু কিছু ছোট পুকুর ছাড়া চলনবিলের কোথাও পানি থাকে না। ফলে এসময় থেকেই চলনবিল শুকনো মৌসুমে একটি জলশূন্য নিচু এলাকায় পরিণত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় চলনবিলে জেগে ওঠা জমিতে রকমারি ফসল চাষ আর বিলের বিভিন্ন পাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে একাধিক গ্রাম।

 সেখানে শুষ্ক মৌসুমে চলে বোরো ও উচ্চ ফলনশীল ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। একইভাবে বর্ষায় সেখানে গভীর পানির বোনা আমনের চাষ করা হয়ে থাকে। উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাছের চাহিদা পূরণে চলনবিল এক সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে প্রাকৃতিক এই মৎস্যভান্ডারের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিলটি থেকে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ প্রায় হারিয়ে গেছে। যেগুলো অবশিষ্ট আছে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে যথাযথ কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে।