অপরাধের নাম মানবপাচার

অপরাধের নাম মানবপাচার

মানব পাচার হতভাগ্য ব্যক্তিদের জন্যই শুধু বিড়ম্বনা ডেকে আনছে না জাতির জন্য তা লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুনিয়ার যেসব দেশ থেকে মানবপাচারের ঘটনা বেশি ঘটে বাংলাদেশের নাম তার উপরের কাতারে। মানব পাচার বন্ধ রোধে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এ অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের নিবৃত্ত করা যে সম্ভব হচ্ছে না, তা একটি বাস্তবতা। এ অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের এক বড় অংশই প্রভাবশালী। আর্থিক এবং সামাজিক প্রভাবের কারণে তাদের আটকানো যায় না। এদিকে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে নৌকায় সাগর পাড়ি দিচ্ছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে তারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হওয়ায় বেড়েছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সময় কক্সবাজারের টেকনাফে ৩৩ রোহিঙ্গা ও ৬ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়।

প্রসঙ্গত : নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত সাগর তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকে। আর এই সময়টাতেই সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে রোহিঙ্গাদের নৌকায় করে সাগর পথে পাচার হবে। সাগর পথে ঝুঁকিপূর্ণ মানব পাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কক্সবাজার। এ এলাকা হয়ে পাচার হয়ে যাওয়া অনেক লোক মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের জঙ্গলে অনাহারে মারা গেছেন। অনেককে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে লাখ লাখ টাকা। মানব পাচারের অবৈধ কর্মকান্ডে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়। যে কারণে চিহ্নিত মানব পাচারকারীদের অর্থ লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট। তারা সন্দেহভাজনদের একটি তালিকা পাঠায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। মানব পাচার বন্ধে অপরাধীদের শক্ত হাতে ধরার উদ্যোগ নিতে হবে। পাচারকারীরা যতবড় প্রভাবশালীই হোন না কেন - এদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।