অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য

অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য। নানা পদ্ধতিতে তারা সাধারণ যাত্রীদের অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেল স্টেশন, সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এমনকি বিমান বন্দরকে টার্গেট করে অজ্ঞান পার্টির সুসংবদ্ধ সদস্যরা। ঈদ এলেই এই অপরাধী চক্রের তৎপরতা বহুগুণে বেড়ে যায়। ভদ্রবেশে এরা যাত্রীদের সঙ্গে সম্পর্ক পাতায়। সাধারণত যাত্রীদের কাউকে ডাবের পানি কিংবা পানীয় জাতীয় খাদ্য অফার করে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। এ কৌশলে কাজ না হলে পরে র‌্যাপিং পেপারে মোড়ানো খাবার অফার করে। অন্য কৌশলে হতভাগ্য যাত্রীর সর্বস্ব হাতিয়ে নেয়। অজ্ঞান পার্টির বেশ কয়েকটি গ্রুপ রাজধানী থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন ট্রেনে কাজ করছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টি নামের ৪০ জন দুর্বৃত্তকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

বুধবার রাতে ডিবির দক্ষিণ পশ্চিম বিভাগ ও সিরিয়াস ক্রাইম বিভাগের পৃথক অভিযানে এ সব অপরাধীকে আটক করা হয়। অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে কেবল রাজধানী ঢাকার মানুষই পড়ে না, সারা দেশেই এ পার্টি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ফলে যারা অসাবধান অবস্থায় যাতায়াত করে তারাই এ পার্টির খপ্পরে পড়েন সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসকরা বলেন, অজ্ঞান করার জন্য বারবি চুরেট জাতীয় বিষ ব্যবহার করা হয়। খাদ্যের সঙ্গে বেশি মাত্রায় এ বিষ পাকস্থলীতে প্রবেশ করলে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ক্লোরোফর্ম মেশানো খাবার খেলে লিভার ও কিডনি আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে। অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা ধরা পড়লেও আইনের ফাঁক দিয়ে তারা বেরিয়ে যায়। জন নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের অপরাধের জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা দরকার। সরকারের সদিচ্ছা, আন্তরিকতা ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে।