অগ্নিঝরা মার্চ মাস

অগ্নিঝরা মার্চ মাস

করতোয়া ডেস্ক : গৌরবের অগ্নিঝরা মার্চ মাস আজ শুরু। আজ পহেলা মার্চ। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের এক চেতনা দীপ্ত মাস। অহংকারের মাস। বাঙালির জয়যাত্রার মাস। স্বাধীনতা ঘোষনার মাস। যে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালি জাতি শুরু করে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। সেই থেকে মার্চ মাস অগ্নিঝরা মাস। সেই থেকে আমাদের স্বাধীনতার পথ চলা। আজ থেকে ৪৮ বছর আগে ১৯৭১ সালের আজকের দিনে দুপুরে এক বেতার ভাষনে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চে অনুষ্ঠেয় জাতীয় পরিষদের আধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষনা করেন। বিদ্যুৎবেগে সে খবর ছড়িয়ে পরে। কেননা সেই নির্বাচনের ফলাফল ইসলামাবাদ গ্রহণ করতে চায়নি। তাই প্রতিবাদে মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা পূর্ব পাকিস্তান। সেদিন থেকে রাস্তায় রাস্তায় স্লোগান ওঠে ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। সেই নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন পায় আওয়ামী লীগ। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠি আরেকবার প্রমান করে তারা অস্ত্রের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে দাবিয়ে রাখতে চায়। সেই প্রেক্ষাপটে ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার ঐতিহাসিক ভাষনে তেজদীপ্ত কন্ঠে ঘোষনা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

 তিনি সেই ভাষন শেষ করেছিলেন ‘জয়বাংলা’ বলে। সেই থেকে আমাদের মুক্তি সংগ্রামে জয়বাংলা স্লোগান অস্ত্র হয়ে ওঠে। শক্রপক্ষ জয়বাংলা স্লোগানকে ভয় পেতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর আহবানে সারা দিয়ে বাঙালি জাতি ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলে। একদিকে গোটা পূর্ব পাকিস্তান মিছিলে মিছিলে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলে, অপর দিকে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা গোপনে বাঙালি জাতিকে নিধন করতে সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে।  এ ভাবেই আসে ২৫ মার্চের কালরাত। ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান বাঙালি জাতি নিধনে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বাস্তবায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আর সেই হত্যাজজ্ঞের দায়িত্ব বর্তায় মেজর জেনারেল খাদিম হোসেনের উপর। ২৫ মার্চ রাতের শুরুতেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী গণহত্যা শুরু করে। সেই রাতেই গ্রেফতার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গ্রেফতার হওয়ার আগে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন। সেই থেকেই শুরু হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। নয় মাসের সেই মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন। ৩ লাখ নারী ধর্ষিত হন। আর এককোটি মানুষ সীমান্ত পেড়িয়ে ভারতে শরনার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। যার সব কিছুই ছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নিষ্ঠুর ও পাশবিক গণহত্যা। সেই নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে আতœসমর্পন করে। বিজয় অর্জন করে বাংলাদেশ। লাল-সবুজের পতাকায় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মানুষ গেয়ে ওঠে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবসি’।