অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন

অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন

নতুন বছর ২০১৮ নির্বাচনের বছর হিসেবে জাতির সামনে হাজির হয়েছে। এ বছর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আরম্ভ করে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বছর জুড়েই নির্বাচনের তোড়জোড় অনুভূত হবে দেশের কোথাও না কোথাও। সংবিধান অনুযায়ী আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এখনো দশ এগারো মাস বাকি। ২০১৪ সালের এক তরফা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন নিয়ে বাড়তি আগ্রহ ও কৌতুহল রয়েছে বিদেশিদেরও। ইউরোপীয় পার্লামেন্টারি (ইপি) প্রতিনিধি দলের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য যে ছিল আগামী নির্বাচন, সে কথা তারা পরিষ্কার করেই জানান দিয়ে গেছে। দশম নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ যা নেওয়ায় তা এক তরফায় পরিণত হয়। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ায় সেই সংকটের পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশা করছে দেশবাসী।

তিন দিনের সফরে এসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টারি দলটি জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে, যাতে ঘুরে ফিরে নির্বাচন, সুশাসন ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার অগ্রাধিকার পেয়েছে। আমরাও মনে করি, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের একমাত্র গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য পন্থা হলো নির্বাচন। সেই নির্বাচনে সব পক্ষের অংশগ্রহণ একান্ত জরুরি। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, কোনো পক্ষকে বাদ দিয়ে পুরো জাতির পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিত্ব ঘটবে না এবং সেই কারণে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই উভয় পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে পালন করতে হবে স্বাধীন ও কার্যকর ভূমিকা। দেশের মানুষকে বিপন্ন করে কোনো রাজনীতিই হওয়া উচিত নয়। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ভোট যুদ্ধে গণতন্ত্রের জয় হবে -এমনটিই-দেখতে চায় দেশবাসী।