আদালতে স্বীকারোক্তি

২০ হাজার টাকা কন্ট্রাক্টে গৃহবধূ আফরুজাকে জবাই করেছে আনু

 ২০ হাজার টাকা কন্ট্রাক্টে গৃহবধূ আফরুজাকে জবাই করেছে আনু

দুপচাঁচিয়া ( বগুড়া) প্রতিনিধি: ‘২০ হাজার টাকা কন্ট্রাক্টে আমি গৃহবধূ আফরুজাকে জবাই করি। এ সময় বাচ্চু ওরফে পাইতা, জসিম ও আতিকুর তা হাত ও পা ধরে ছিল’। জবাই করলেও কন্ট্রাক্টের ২০ হাজার টাকা আমি পাইনি। এই টাকা বাচ্চু মেরে দিয়েছে।’ গ্রেফতার হওয়ার পর আসামী আমিনুর রহমান ওরফে আনু পুলিশ ও আদালতে এই স্বীকারোক্তি দিয়েছে। বগুড়ার  ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শ্যাম সুন্দর রায় তার দেয়া জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এর আগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  আফরুজাকে খুন করে সেখানে সে একটি বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল। উল্লেখ্য, তাকে নিয়ে এ পর্যন্ত চার খুনির মধ্যে তিনজনকেই গ্রেফতার করা হলো। এর আগে পুলিশ খুনের পরিকল্পনাকারি জসিম উদ্দিন ও খুনের কন্ট্রাক্ট নেয়া ভাড়াটিয়া খুনি বাচ্চু ওরফে পাইতা বাচ্চুকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে বাচ্চু হত্যার দায় স্বীকার করে আগেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের গ্রেফতারের পর পুলিশ অন্য খুনিদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, বগুড়া পুলিশ সুপার, মহোদয়ের দিক-নির্দেশনায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (আদমদীঘি সার্কেল) আলমগীর রহমানের নেতৃত্বে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমানসহ একদল পুলিশ জিয়ানগর বাজার এলাকার পাশে আক্কেলপুর থেকে  আনুকে গ্রেফতার করে। এরপর  আনুকে গত রোববার বগুড়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শ্যাম সুন্দর রায়ের আদালতে হাজির করা হলে সে গৃহবধূ আফরোজা বেগমকে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয়। আনু (৩৬) দুপচাঁচিয়ার বড় চাপড়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে। উল্লেখ্য গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে দুপচাঁচিয়া উপজেলার তালোড়ার বড় চাপড়া গ্রামে ঘরের টিনের বেড়া কেটে ভিতরে ঢুকে ওই চার দুর্বৃত্ত গৃহবধূ আফরুজা বেগমকে জবাই করে হত্যা করে। কিশোরি মেয়ে ধর্ষণের ঘটনায় আফরুজা এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। এ মামলার আসামী হিসাবে জসিমের ছেলে মোহন জেলে রয়েছে। এই ক্ষোভে জসিম ওই ভাড়াটিয়া খুনিদের একলাখ টাকায় কন্ট্রাক্ট করে আফরুজাকে খুন করে নেয় এবং সে নিজ্ওে খুনে অংশ নেয়।