হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার

 হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার

দুনিয়ায় যেসব দেশ থেকে বিদেশে ব্যাপক মাত্রায় অর্থ পাচার হয় সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম। এ বিড়ম্বনা এড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ গ্রহণে মিলছে না কাঙ্খিত সুফল। সরকারের দায়িত্বশীল অন্তত আটটি সংস্থার নজরদারি এবং ব্যাংকিং লেনদেনে কড়াকড়ি সত্ত্বেও হুন্ডির আগ্রাসন থামানো যাচ্ছে না। দেশে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারের রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশ থেকে প্রতি বছর টাকা পাচার হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশেও গড়ে উঠেছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। ওয়াশিংটনভিত্তিক অর্থ পাচার বিরোধী সংস্থা গ্লোবাল ফিনানসিয়াল ইনটিগ্রিটি (জিএফআই) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, শুধু ২০১৪ সালেই বাংলাদেশ থেকে আরও প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে গেছে। ২০১৩ সালে দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৭৭ হাজার কোটি টাকা।

  ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত জিএফআই প্রতিবেদনে সর্বোচ্চ অর্থ পাচারের দিক থেকে বিশ্বের ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২৬তম। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর যে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে তার একটি বড় মাধ্যম হুন্ডি। এর বাইরে বিদেশে টাকা পাচার হচ্ছে ব্যবসার নামে। জানা যায়, অর্থ পাচারের প্রধান মাধ্যম এখন হন্ডি। মাঝারি ও ছোট ব্যবসায়ীরাও বিদেশে অর্থ পাচার করে বাড়ি বানাচ্ছেন, জমি কিনছেন, কারখানা গড়ছেন। ব্যবসায়ীরা দেদার অর্থ পাচার করছেন আমদানি-রপ্তানির আড়ালে, আমদানি পণ্যের দাম বেশি দেখিয়ে আর  রপ্তানি পণ্যের দাম কমিয়ে। জিএফআই জানায় সম্প্রতি বিভিন্ন দেশে হুন্ডিচক্র এতটাই সক্রিয় হয়ে উঠেছে যে, ব্যাংকিং বা অন্য যে কোনো মাধ্যমের চেয়ে অত্যন্ত দ্রুত এবং কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই তারা গ্রাহকের ঠিকানায় টাকা পৌছে দিচ্ছে। নানা পেশার মানুষ এই টাকা পাচারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। অথচ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছে না। অর্থ পাচারের এ ধারা দেশের অর্থনীতির জন্য সংকট ডেকে আনছে। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেই অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সরকারকে কড়া হতে হবে।