হুন্ডিতে টাকা পাচার

 হুন্ডিতে টাকা পাচার

দুনিয়ার যেসব দেশ থেকে বিদেশে ব্যাপক মাত্রায় অর্থ পাচার হয় সেই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশের নাম। এ বিড়ম্বনা এড়াতে সরকারের নানা পদক্ষেপ গ্রহণেও মিলছে না কাঙ্খিত সুফল। বিদেশ গমন, চিকিৎসা ব্যয় মেটানো, ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় বৈদেশিক কেনাকাটাসহ জীবনযাত্রার নানা ক্ষেত্র এখন হুন্ডির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। এর আগে ওয়াশিংটন ভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যানসিয়াল ইন্টিগ্রিটির প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে গত দশকে বিভিন্ন দেশে ৪ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর যে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে তার একটা বড় মাধ্যম হুন্ডি। গত শুক্রবার জাতীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয় হুন্ডির মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিদেশে অর্থ পাচার করছে বেশকিছু চক্র।

এ তালিকায় রয়েছেন এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে অসাধু ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট, আমদানিকারক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার। বৈদেশিক মুদ্রার সরকারি মুদ্রানীতি অনুসরণ না করে এভাবে অর্থ স্থানান্তরের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরকারি প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ কারণে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে সরকারও বঞ্চিত। শুধু বিদেশে পাচার নয়, হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশ থেকে দেশেও অর্থ ঢুকছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭ সালে হুন্ডির মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার পাচার বা লেনদেন হয়েছে। অর্থ পাচারের এ ধারা দেশের অর্থনীতির জন্য সংকট ডেকে আনছে। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা নানা কৌশলে তাদের অপতৎপরতা চালাচ্ছে। হুন্ডি বন্ধে কড়া নজরদারির বিকল্প নেই। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থেই অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে গড়ে তুলতে হবে আইনি প্রতিরোধসহ কার্যকর ব্যবস্থা।