হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ

 হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় মাছ

দেশি মাছের অভাব তীব্রতর হচ্ছে। কাচকি, কৈ, মাগুর, ট্যাংরা, টাকি, পুঁটি বাইন, শোল প্রভৃতি দেশি প্রজাতির মাছ মানুষের দেহের পুষ্টি যোগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এক সময় বাজারে মাছের সরবরাহ ছিল পর্যাপ্ত। মানুষ বাজার থেকে নিয়মিত দেশি মাছ কিনতেন। অনেকে নিজেদের পলো, জাল, বড়শি দিয়ে খাল, বিল, পুকুরে মাছ ধরতেন। কথায় আছে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। স্বাধীনতার পর এ দীর্ঘ সময়ে জনসংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। অপর দিকে উন্নয়ন ও নতুন আবাসনের সুবিধার জন্য দেশের বিপুলসংখ্যক খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ভরাট করা হয়েছে। ফলে মাছ প্রিয় সাধারণ বাঙালি পরিবারে মাছের অভাব দেখা দেয়। ছোট আকারের দেশি মাছ বাজারের অন্যসব মাছের তুলনায় খাদ্যগুণে অনেক বেশি সমৃদ্ধ। শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষের পুষ্টির জন্য সাধারণত এসব দেশি মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু বাজারে সরবরাহ না থাকায় এসব মাছের দাম খুবই বেশি। রোগিদের জন্য পথ্য হিসাবে ডাক্তাররা প্রায়ই শিং-মাগুরের ঝোল খেতে বলেন। কিন্তু বাজারে দেশি শিং-মাগুরের দাম প্রায় ৮০০-১০০০ টাকা কেজি। তবে সেটাও সব সময় পাওয়া যায় না। এখন সর্বত্রই চাষ করা মাছ। এক সময় আমাদের মৎস্য বিজ্ঞানীরা দেশিয় প্রজাতির মাছকে অবহেলায় রেখে দেশে বিদেশি জাতের মাছের চাষ বাড়াতে উৎসাহী হয়ে পড়েন। তেলাপিয়া, নাইলোটিকা, আমেরিকান রুই, গ্রাস কার্ব, সিলভার কার্ব, থাইসরপুঁটি, চিতল, পাঙ্গাস, পাবদা, চিংড়ি ইত্যাদি মাছ এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষের আওতায় এসেছে। প্রাকৃতিক প্রজনন এবং নিজস্ব পরিবেশে দেশি জাতের মাছ কীভাবে চাষ করা যায়, সেই বিষয়েও জনসচেতনতা ও দিক নির্দেশনা বাড়াতে হবে। মাছের খামারিদেরও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করা উচিত। মজা ডোবা, খাল, বিল পুনর্খনন করে দেশি মাছের অবাধ বংশবিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে।