হলি আর্টিজানে হামলা ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্য উন্মোচন ফুল-অশ্রুতে নিহতদের স্মরণ

 হলি আর্টিজানে হামলা ‘দীপ্ত শপথ’ ভাস্কর্য উন্মোচন ফুল-অশ্রুতে নিহতদের স্মরণ

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘দুই বছর আগে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালানো জঙ্গিদের ঠেকাতে গিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করেই আমরা জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে দিয়েছি, গুড়িয়ে দিয়েছি এবং পর্যুদস্ত করেছি। এখন জঙ্গিদের উঠে দাঁড়ানোর মতো শক্তি আর নাই।

ঢাকাবাসীর জন্য শান্তির কাজ করেছি।’ নজিরবিহীন ওই হামলায় নিহত পুলিশের তৎকালীন সহকারী কমিশনার রবিউল করিম ও বনানী থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন খানের স্মরণে  রোববার গুলশান পুরাতন থানা চত্বরের সামনে নির্মিত ‘দীপ্ত শপথ’ নামক ভাস্কর্যের নামফলক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। উদ্বোধনের পর ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান ডিএমপি কমিশনার। এ সময় বাংলাদেশে আর এধরনের হামলা করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি। ‘দীপ্ত শপথ’ নামের এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন ভাস্কর মৃণাল হক। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। গুলশান ২ নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কে ওই বেকারিতে হামলার আধা ঘণ্টার মধ্যে সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন এসি রবিউল ও ওসি সালাউদ্দিন। সেসময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ব্যাপক গোলাগুলিতে তারা দুইজনসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন। ওই রাতেই ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান দুই পুলিশ কর্মকর্তা। ভাস্কর্য উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফুলেল শ্রদ্ধা, এক মিনিট নিরবতা পালন ও বিউগলের সুরে সশস্ত্র সালামের মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়। উদ্বোধনের পর বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন, নিহতদের পরিবার, গুলশান বিভাগের পুলিশ, ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ, গোয়েন্দা পুলিশ, গুলশান-বনানী-বারিধারা সোসাইটি, থানা কমিউনিটি পুলিশ, রাজনৈতিক-সামাজিক- ব্যবসায়িক সংগঠনসহ বিভিন্ন স্তরের সাধারণ জনগণ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

ভাস্কর্যটি উন্মুক্ত করে ডিএমপি কমিশনার বলেন,  ‘ছোট-বড় মিলিয়ে ৭০টির মতো জঙ্গি অভিযান হয়েছে। অভিযানে অনেক জঙ্গিকে জীবিত আটক করেছি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছি, যা বিশ্বে নজিরবিহীন।’ গুলশান হামলায় জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা, অর্থদাতা, ইন্ধনদাতাসহ সবাইকে চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেই আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে। সকল সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের মাধ্যমে সকল জড়িতরা শাস্তি পাবে।’ চলমান মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘জঙ্গিবাদের মতোই মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছি। মাদকের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতাদের নামের তালিকা তৈরির কাজ চলছে, বিশেষ করে যারা জামিন করাচ্ছে ওইসব আইনজীবীদেরও তালিকা করা হচ্ছে।’