সোনার ভরি ফের ৫০ হাজার টাকা ছাড়াল

 সোনার ভরি ফের ৫০ হাজার টাকা ছাড়াল

সোনার দর আরেক দফা বেড়ে প্রতি ভরি ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়েছে। আজ বুধবার থেকে প্রতি ভরি সবচেয়ে ভালো মানের সোনা বিক্রি হবে ৫০ হাজার ৭৩৮ টাকায়। ২০১২ সালে সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার দাম বাড়তে বাড়তে ৬০ হাজারে উঠেছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে উঠানামার পর ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ৫০ হাজার টাকার নিচে নেমে আসে। গত সেপ্টেম্বরে তা আবার ৫০ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেলেও পরের চার মাসে ৫০ হাজার টাকার নিচেই ছিল।

এখন দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ভালো মানের সোনার দাম বাড়ল ভরিতে এক হাজার ৪০০ টাকা। অন্যান্য মানের সোমার দাম বেড়েছে ভরিতে এক হাজার ৩০০ টাকার মতো। বুধবার থেকে নতুন দর কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে। চাহিদা বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দেশে বিয়ের মৌসুম চলছে। সে কারণে চাহিদা বেশি। কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ কম। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারেও দাম চড়া। সার্বিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমরা সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ সর্বশেষ ২৫ ডিসেম্বর সোনার দাম বাড়িয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। শীতের শুরুতে ২৬ নভেম্বরও সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। বাজুসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার থেকে সারা দেশে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট অর্থাৎ সবচেয়ে ভালো মানের সোনা ৫০ হাজার ৭৩৮ টাকায় বিক্রি হবে। বর্তমানে এই মানের সোনা ৪৯ হাজার ৩৩৯ টাকায় মিলছিল। ২১ ক্যারেট ও ১৮ ক্যারেট সোনার দরও ভরিতে এক হাজার ৪০০ টাকা করে বেড়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ভরিতে ৮৭৫ টাকা বেড়েছে। বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার থেকে ২১ ক্যারেট মানের সোনা ৪৮ হাজার ৪০৫ টাকায় বিক্রি হবে। ১৮ ক্যারেট মানের সোনা বিক্রি হবে ৪৩ হাজার ১৫৭ টাকায়। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি দাঁড়াবে ২৬ হাজার ৫৩৬ টাকা, যা এখন ২৫ হাজার ৬৬১ টাকায় মিলছে। বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধ এবং স্বর্ণ আমদানির নীতিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে এই বছরের মধ্যে স্বর্ণ নীতিমালা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে বছর শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত নীতিমালা হয়নি। দ্রুত ওই নীতিমালা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা বলেন, নীতিমালা করা হলে একদিকে যেমন চোরাচালান বন্ধ হবে, অন্যদিকে দামও কম পড়বে।