সোনা চোরাচালান

 সোনা চোরাচালান

চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে গত সোমবার সকালে আবুধাবি থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজে তল্লাশি করে ২৩ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের ২০৩টি সোনার বার উদ্ধার করে গোয়েন্দারা। সোনার বারগুলোর আনুমানিক মূল্য ১২ কোটি টাকা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিমানের দুই কর্মচারিকে আটক করা হয়েছে। বিমানের টয়লেট থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। দেশে সোনার বাজার চোরাচালান নির্ভর ও কালো বাজার নির্ভর। এ খাতে কোনো স্বচ্ছতা নেই। সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সোনা ব্যবসায়ীদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। সোনার বাজারকে নীতিমালার বাইরে রাখতে প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও বড় বড় সোনা ব্যবসায়ীদের একাংশের যোগ সাজশ রয়েছে। শাহজালাল সহ বাংলাদেশের তিন আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্রতি মাসেই বিপুল পরিমাণ সোনা ধরা পড়ে। মনে করা হয় এ সোনার সিংহভাগই ভারতে পাচারের জন্য আনা হয়।

বিমান পথে বিদেশ থেকে যে সোনা চোরাচালান হয়ে আসে তার বড় জোর এক-দুইশতাংশ ধরা পড়ে। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয় বিমান বন্দর সহ বিভিন্ন সংস্থায় কর্মরত দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে চলছে এ কর্মকান্ড। মাঝে মাঝে কিছু চালান ধরা পড়লেও বেশির ভাগ চালান নিরাপদে পার হয়ে চলে যায় সীমান্তের ওপারে একটি প্রতিবেশী দেশে। সোনাবহনকারীদের দু’একজন ধরা পড়লেও আড়ালে থেকে যাচ্ছেন গডফাদাররা। ২০১৩ সালের এপ্রিলে ভারত সোনা আমদানিতে শুল্ক বাড়িয়ে দেওয়ার পর চোরাপথে সোনা আমদানি বেড়ে যায় হু হু করে। সোনা চোরাকারবারিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ৪ হাজার কিলোমিটারের বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। সোনা পাচারের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ট্রানজিট রুট হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। আকাশ পথে আসা সোনা বাস ও ট্রেন যোগে সীমান্ত জেলাগুলো দিয়ে পার হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই বিমান বন্দরে চোরাচালানের যে অভয়ারন্য গড়ে উঠেছে তা বন্ধের উদ্যোগ নিতে হবে। চোরাচালান রোধে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা।