সোনা চোরাচালান

 সোনা চোরাচালান

প্রতি সপ্তাহে একাধিক অবৈধ সোনার চোরাচালান দেশে আসার সংবাদ উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ বিমান সহ বিমান বন্দরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারি যে চোরাচালানের সাথে জড়িত তা বহুবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের এক গাড়ি চালককে ৬০টি সোনার বার সহ গত রোববার দুপুরে আটক করেছে ঢাকা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আটককৃত সোনার ওজন প্রায় সাত কেজি। সোনা সহ আটক বিল্লাল হোসেন বাংলাদেশ বিমানের গাড়ি চালক। এ ছাড়া দেশের ইতিহাসে বড় দুটি সোনার চালান উদ্ধার ঘটনার তদন্ত শেষে জানা গেছে, বিমানের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারির যোগসাজসেই সোনা চোরাচালান করছে দেশি-বিদেশি চক্র। বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হচ্ছে সোনা পাচারের ট্রানজিট রুট।

দীর্ঘদিন ধরেই এ বিমান বন্দরে একটি শক্তিশালী চক্র লাগেজ ব্যবসার আড়ালে সোনা, রূপা, মাদক ও মুদ্রাসহ নানা রকম মালামাল পাচার করছে। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ এ লাগেজ ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি হচ্ছে বিমান ও বিমান বন্দরের এক শ্রেণির টপ টু বটম। সন্দেহ নেই, বিমান বন্দরে সোনা চোরাচালানের ঘটনার সময়ে সময়ে যাদের আটক করা হয়, তারা কেবল বাহক মাত্র। মূলত এর পেছনে সক্রিয় রয়েছে দেশি-বিদেশি পাচারকারি মাফিয়া চক্র। বিমান বন্দরে সোনা চোরাচালানসহ অন্যান্য অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নিয়ে এগিয়ে আসার কথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মাঝে মধ্যেই বলা হয়ে থাকে। কিন্তু বাস্তবে যে তার প্রয়োগ নেই, সমঝোতার মাধ্যমে অবৈধভাবে দেশে সোনার চালান আনার ঘটনা তার বড় প্রমাণ। সরকার সোনা চোরাচালান সহ সব ধরনের অপরাধ দমনে শতভাগ আন্তরিক, এটা প্রমাণ করতে হলে অবশ্যই কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকতে হবে। আমরা কোনোমতেই চাই না, আমাদের প্রিয় স্বদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধীচক্রের লীলাভূমিতে পরিণত হোক।