সীমান্তে হত্যাকান্ড বন্ধ করুন

 সীমান্তে হত্যাকান্ড বন্ধ করুন

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকান্ড অব্যাহত থাকা আমাদের ক্ষুব্ধ না করে পারে না। আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, প্রায়ই নিয়মিত বিরতিতে দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেই চলছে। সর্বশেষ গত সোমবার বিকালে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের জগদল সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আবারও নিহত হয়েছেন বাংলাদেশি যুবক। এটা নিয়ে গত ১০ দিনের মধ্যে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে তিন বাংলাদেশি নিহতের ঘটনা ঘটল। একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এমন হত্যাকান্ড চালাবে কেন? অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম নিশ্চয়ই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু তার জন্য প্রচলিত আইন ও দন্ড রয়েছে।

সীমান্ত বিরোধ কিংবা জটিলতা নিষ্পত্তিতে সাধারণ মানুষের কোনো ভূমিকা নেই। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকেই সীমান্ত পরিচালিত হয়ে থাকে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকরা বিএসএফ’র গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছে। এর চির অবসান দ্রুত জরুরি। বাংলাদশ-ভারত পরস্পর বন্ধুপ্রতিম দুটি রাষ্ট্র। এই সম্পর্ক যাতে ক্রমেই আরো মজবুত হয়, সে লক্ষ্যেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে ভারতের তরফে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। কারণ তাদের দিক থেকেই অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি বর খেলাপ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘটছে। সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা এরই একটি দিক। আমরা মনে করি, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাসে বিশ্বাসী না হয়ে নিজেদের আন্তরিক মনোভাব দেখালেই কেবল কমে আসবে সীমান্তে হত্যাকান্ড- যা দুদেশের জনগণ এবং সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ সরকারকে সীমান্ত হত্যাকান্ড বন্ধে জোরদার কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে।