আওয়ামী লীগে ক্ষোভ-বিক্ষোভ

সহ-সম্পাদক নিয়ে জটিলতা দূর করতে শেখ হাসিনার নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সহ-সম্পাদক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ে ঘরে-বাইরে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বঞ্চিতদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় নেতাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেরই অভিযোগ, সহ-সম্পাদক পদে যাদের নাম এসেছে, তারা গুটিকয়েক প্রভাবশালী নেতার পকেটের লোক। এ তালিকায় রয়েছে বিএনপি-জামায়াত থেকে আসা নেতাদের নামও। সম্পাদকমন্ডলীর একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আওয়ামী লীগের উপকমিটির সহ-সম্পাদকের তালিকা নিয়ে গত দুই দিনে কয়েক দফা সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের বিক্ষোভে তোপের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 এ সময় ‘যোগ্যতাসম্পন্ন’ সবাইকে কমিটিতে পদ দেয়ার কথা বলে বিক্ষোভকারীদেরকে শান্ত করেন তিনি। দলীয় সূত্রমতে, সহ-সম্পাদক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান পদবঞ্চিত সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। পরবর্তীতে তাদের সাথে যুক্ত হয়েছেন দলের বিক্ষুব্ধ কেন্দ্রীয় নেতারাও। ফলে সহ-সম্পাদক হতে পারেননি এমন নেতাদের বিক্ষোভ আরও বেশি ফুঁসে উঠেছে। গত দু’দিন ধরে চলা বিক্ষোভে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ঘিরে তার গতিরোধ করে দাঁড়ান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন, তারাও বঞ্চিতদের দাবির সাথে সহমত পোষণ করেন। সহ-সম্পাদক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিন/চার জন কেন্দ্রীয় নেতার বাইরে আর কাউকে রাখা হয়নি। তারা বলেন, আমাদের কাগজে-কলমে  রাখা হয়েছে। সহ-সম্পাদক গঠন প্রক্রিয়ায় স্ব স্ব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদকদের কাজ করার স্বাধীনতা থাকলে, আজকের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।

 সূত্র জানায়, বিভাগগুলোকে এতই অবহেলা করা হয়েছে যে, স্ব স্ব বিভাগের সম্পাদকদের অংশগ্রহণ তো ছিলই না, বরং কারও নাম প্রস্তাব করা হলে দলের দু’জন প্রভাবশালী নেতা  সঙ্গে সঙ্গে নানা কথা বলে তা বাদ দেন। সূত্রগুলো আরও  জানায়, দলের দু’জন প্রভাবশালী নেতা সহ-সম্পাদকদের নামের তালিকা বন্ধ খামে করে বিভাগীয় প্রধানদের হাতে ধরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়,  সহ-সম্পাদকদের স্বাক্ষরও নিতে চেয়েছিলেন। বেশিরভাগ সহ-সম্পাদক তা প্রত্যাখান করেন। শেষ পর্যন্ত সহ-সম্পাদক নিয়ে যে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা হলো এর দায়ভার ওই প্রভাবশালী দুই নেতা এড়াতে পারেন না। সূত্রমতে, প্রভাবশালী ওই দু’নেতার ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে ইতোমধ্যে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাও জানতে পেরেছেন। তিনি ওই দু’নেতাকে গণভবনে ডেকে নিয়ে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে বকেছেন। অনতিবিলম্বে সহ-সম্পাদক জটিলতার নিরসন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন সূত্র এ বিষয়ে আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সম্পাদকদের এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করে দ্রুততার সঙ্গে যোগ্য নেতাদের সহ-সম্পাদক পদে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

 চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে দলীয় প্রধানকে অবহিত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সহ-সম্পাদক জটিলতা নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, কিছু ভুলত্রুটি ও জটিলতা দেখা দিয়েছিল। শিগগিরই তা দূর হয়ে যাবে। শুক্রবার রাতে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি বলেন, ফেসবুকে যে তালিকা গেছে, ওটা তারা চূড়ান্ত করেননি। তিন মাস যাচাই বাছাই শেষে তালিকা প্রকাশ করা হবে। পরদিন শনিবার রাত পৌনে আটটার দিকে কাদের আবার ধানমন্ডি কার্যালয়ে গেলে আবারও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন কাদের। এ সময় তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদেরকে আবার বলেন, এটা আমি দেখছি। যে তালিকা গেছে তাকে সাধারণ সম্পাদকের সাইন ছিল না। সাবেক ছাত্রনেতা সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। অবশ্য শুক্রবারের ঘটনার সময় সেখানে কোনো সাংবাদিক ছিল না জানিয়ে শনিবার সচিবালয়ে ওবায়দুল বলেন, তখন তারা আনন্দ মিছিল করছিল। আর এটাকে বলে বিক্ষোভ মিছিল। সেক্রেটারিকে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল। এটা অন্যায় এটা কষ্টকর। তবে শনিবার বিকাল থেকেই সাবেক ছাত্রনেতারা আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়কে ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

 তারা দফায় দফায় মিছিল করে শেখ হাসিনার পক্ষে স্লোগান দিতে থাকে। রাত সাতটা ৪২ মিনিটের দিকে ওবায়দুল কাদের গাড়িতে করে ধানমন্ডি ৩/এ কার্যালয়ে আসেন। তিনি গাড়ি থেকে নামার পর পর তাকে ঘিরে আগের দিনের মতেই হৈ চৈ করতে থাকেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা। ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবু আব্বাস এ সময় ওবায়দুল কাদেরকে বলেন, নেত্রী আমাদের নাম রাখার জন্য সুপারিশ করেছিল। কিন্তু আমাদের রাখা হয়নি। কী কারণে রাখা হয়নি? আমরা তো জেলও খেটেছি। এ সময় কাদের তাদেরকে বলেন, সাবেক ছাত্রনেতা সবাইকে রাখা হবে। তখন পেছন থেকে একজন ফুড়ন কাটেন, তাহলে তো এক লাখ হয়ে যাবে। তখন কাদের বলেন, যোগ্যতাসম্পন্ন সাবেক ছাত্রনেতা সবাইকে রাখা হবে। ওবায়দুল কাদেরকে ঘিরে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের এই বাদানুবাদ চলার সময় বাঁশিতে ফু দিয়ে দিয়ে পুলিশ আসতে থাকে। তবে তারা কাউকে বাধা দেয়নি।