সংকুচিত হচ্ছে প্রবাসী শ্রম বাজার

 সংকুচিত হচ্ছে প্রবাসী শ্রম বাজার

বাংলাদেশি সহ সবচেয়ে বেশি প্রবাসী রয়েছে বর্তমানে সৌদি আরবে, কিন্তু এ দেশটির পাশাপাশি ওমান এবং কুয়েত সম্প্রতি তাদের বিভিন্ন খাতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ সীমিত করেছে। বাকি দেশগুলোও সরকারি খাতের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে স্থানীয় নিয়োগ উৎসাহিত করছে। এ ছাড়া লিবিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও সিরিয়া এখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত। অথচ এ দেশগুলোও এক সময় বিদেশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের একটি বড় উৎস ছিল। সৌদিতে বিভিন্ন খাতে বর্তমানে ১০ লাখ বাংলাদেশি সহ ১ কোটি ৭৯ লাখ প্রবাসী কাজ করছে। অর্থনীতি শক্তিশালী করতে গত বছর ভিশন ২০৩০ ঘোষণা করে দেশটি। এতে বলা হয়, সৌদি আরবে বর্তমানে খুচরা খাতে কর্মির সংখ্যা ১৫ লাখ। এর মধ্যে মাত্র ৩ লাখ সৌদি নাগরিক আগামী ২০২০ সাল নাগাদ এ খাতে স্থানীয় কর্মি করা হবে ১০ লাখ।

সেই লক্ষ্য পূরণে গত বছরের ২১ এপ্রিল এক প্রজ্ঞাপনে সৌদি আরব সরকার জানিয়ে দেয়, এখন থেকে শপিং মলগুলোতে প্রবাসীরা চাকরি করতে পারবে না। এর আগে নিষিদ্ধ করা হয়, মোবাইল ফোন, বোরকার দোকান, রেন্ট এ কার, হিসাব রক্ষক, নারীদের তৈরি পোশাকের দোকানে কাজ। গত মাসে নতুন করে ১২ ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রবাসীদের কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়। এতে বেকার হয়ে পড়ছে বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ শ্রমিক। সম্প্রতি ওমান সরকার তাদের দেশে ৮৭টি পেশায় বিদেশিদের ভিসা প্রদান সাময়িক স্থগিত করেছে। দেশটি স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াতে এ উদ্যোগ নিয়েছে। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সৌদি আরবে বর্তমানে বেকারত্বের হার ১২.৮ শতাংশ, ওমানে ১২ শতাংশ, এ ছাড়া কুয়েতে ২.২ শতাংশ। সঠিক সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ যেমন নতুন শ্রম বাজারে প্রবেশের জন্য আবশ্যক, তেমনি পুরনো বাজার ধরে রাখতেও ব্যবস্থা নিতে হবে।