লোকালয়ে বন্য হাতির তান্ডব

 লোকালয়ে বন্য হাতির তান্ডব

নির্বিচারে বন উজাড় করে বসতি গড়ে তোলা, বাণিজ্যিক বন, রাবার ও ফলের বাগান সৃষ্টির মতো কর্মকান্ডে পাল্টে যাচ্ছে পার্বত্য তিন জেলার ভূমি ও জীব বৈচিত্র্য। এতে বনাঞ্চলে দেখা দিচ্ছে হাতির খাদ্য সংকট। আবার হাতি চলাচলের নির্দিষ্ট ট্র্যাকগুলো অনিরাপদ হয়ে পড়ায় বিঘœ ঘটছে ওদের চলাচলে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয়ায়ও বাধাহীন চলাচল করতে না পেরে হিংস্র হয়ে উঠছে হাতির পাল। এ অবস্থায় ক্ষুধার্ত হাতির পাল পাহাড়ি নানা পথে খাবারের সন্ধানে নেমে আসছে লোকালয়ে। ঘটছে প্রাণহানি। নষ্ট হচ্ছে সহায়-সম্পদ। বান্দরবান সদর উপজেলা,  লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে বন্য হাতির তান্ডব বেড়ে গেছে। স্থানীয় প্রবীণরা বলছেন, এসব এলাকায় শত শত বছর ধরে হাতির বিচরণ রয়েছে। কিন্তু অতীতের তুলনায় গত দুই দশকে এখানে হাতির তান্ডবের ঘটনা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। চলাচলের পথে মানুষের বসত গড়ে তোলা, খাবারের সংকটসহ নানা কারণে হাতির পাল নেমে আসছে লোকালয়ে।

বিশেষত কাপ্তাই হ্রদের পানি যখন কমে যায় সেই সময় এবং কাঁঠাল ও ধানের মৌসুমে হাতির পাল খাদ্যের খোঁজে অধিক হারে নেমে আসে লোকালয়ে। আর হাতির পালের সামনে পড়া মানুষ এদের ক্ষোভের শিকার হচ্ছে। বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত ও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে হাতি চলাচলের জন্য যে দুটি ট্র্যাক রয়েছে তার মধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি হয়ে চকরিয়া পর্যন্ত ট্রাকটি অন্যতম। কিন্তু হাতি চলাচলের শতবর্ষ প্রাচীন এই ট্র্যাকের ওপর গত কয়েক বছরে শত শত রাবার বাগান, বাণিজ্যিক বন বাগান গড়ে ওঠায় প্রতি বছরই নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হাতির আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। রাঙামাটি সার্কেলের বন সংরক্ষণ অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে তারা হাতি চলাচলের করিডোরে বায়োফেন্সিং ও সোলার ফেন্সিং বসানোর বিষয়টি ভাবছে। একই সঙ্গে হাতি যেসব গাছ খাবার হিসেবে পছন্দ করে সেগুলোর মাধ্যমে বনায়নের চেষ্টা করছে। বন্য হাতির তান্ডব ঠেকানো ও জানমাল রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে হাতিসহ সব বন্য প্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্র পুনরুদ্ধার ও অভয়ারন্য গড়ে তোলাই জরুরি।