‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাত ময়দান

 ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর আরাফাত ময়দান

স্টাফ রিপোর্টার : ‘লাব্বাইক, আল¬াহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখর এখন আরাফাতের ময়দান। সবার মুখে উচ্চারিত হচ্ছে- ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি'মাতা লাকা ওয়ালমুলক’ ধ্বনি। এর অর্থ হল, ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই; সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনার মধ্য দিয়ে আজ শনিবার পবিত্র হজ পালিত হবে। ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হজ। আজ হজে খুতবা দেবেন সৌদি আরবের বিশিষ্ট আলেম, শায়খ মুহাম্মদ বিন হাসান আলে  আশ-শায়খ। তিনি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ওলামা পরিষদ এবং গবেষণা-মুফতি বোর্ডের সদস্য। পাশাপাশি খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন হাদিস কমপ্লেক্সর পরিচালক। সৌদি গেজেটের খবরে বলা হয়, হজ পালনে সৌদি আরবে হাজির হওয়া মুসলমানরা বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে জড়ো হতে শুরু করেন ১০ কিলোমিটার দূরে তাবুনগরী মিনায়। সাদা কাপড়ে আচ্ছাদিত বিভিন্ন বর্ণ, ভাষা, জাতীয়তার লাখো মুসলমান কেউ বাসে, কেউ গাড়িতে, কেউবা হেঁটে মিনার পথে রওনা হন। সৃষ্টিকর্তার কাছে হাজিরা দিতে আসা এই মুসলমানরা আজ জড়ো হবেন আরাফাতের ময়দানে, যাকে হজের মূল অনুষ্ঠান বলা হয়। আরাফাত থেকে মিনায় ফেরার পথে সন্ধ্যায় মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার নামাজ পড়বেন সমবেত মুসলমানরা। মুজদালিফায় রাতে থাকার সময় তারা পাথর সংগ্রহ করবেন, যা মিনার জামারায় শয়তানকে উদ্দেশ্য করে ছোড়া হবে। আগামীকাল রোববার সকালে মিনায় ফিরে সেই পাথর তারা প্রতীকী শয়তানকে লক্ষ্য করে ছুড়বেন। রোববার সৌদি আরবে ঈদুল আজহার দিন পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা। নিরাপদ হজ নিশ্চিত করতে এবছর ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। স্বাস্থ্যসেবা দিতে ৩২ হাজারের বেশি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ দায়িত্বে আছেন।
আজ থেকে প্রায় ১৪০০ বছর আগে এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরাফাতের ময়দানে লক্ষাধিক সাহাবিকে সামনে রেখে ভাষণ দেন, যা ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ নামে পরিচিত। এই ভাষণে তিনি ইসলামের পরিপূর্ণতা ঘোষণাসহ জীবন পরিচালনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। মক্কা নগরীর অদূরে আরাফাতের ময়দানে বিশ্ব মুসলিমের সর্ববৃহৎ সম্মিলন এটি। সূর্যোদয়ের পর হাজিরা মিনা থেকে রওয়ানা হয়ে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হবেন। ‘লাব্বাইক, আল¬াহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি'মাতা লাকা ওয়ালমুল্ক’, অর্থাৎ ‘আমি হাজির, হে আল্ল¬াহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার’ ধ্বনি হাজীদের মুখে। মুখরিত আরাফাতের ময়দান। আজ ফজরের নামাজ আদায় করে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য গাড়িতে বা ট্রেনে মিনা থেকে হাজিরা রওনা হবেন পবিত্র আরাফাত ময়দানের উদ্দেশে। তবে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বের এই পথ বেশির ভাগ হাজি পাড়ি দেবেন পায়ে হেঁটেই। সৌদি আরবের গ্র্যান্ড ইমাম হাজিদের উদ্দেশে খুতবা প্রদান করবেন। খুতবা শেষে হাজীরা জোহর ও আসরের নামাজ একসাথে আদায় করবেন। সারাদিন আরাফাতে অবস্থান করে হাজিরা আরাফাত থেকে রাতে মুজদালিফায় অবস্থান করবেন। আগামীকাল রোববার ভোরে শয়তানকে পাথর মারার উদ্দেশ্যে তারা আবার আসবেন ত্যাগ আর তাবুর শহর মিনায়। পবিত্র হজ উপলক্ষে মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফাত ময়দান, মুজদালিফা ও এর আশে পাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সৌদী সরকার। মোতায়েন আছে এক লাখের বেশী নিরাপত্তাকর্মী। বাংলাদেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল হজের খুতবা সরাসরি সম্প্রচার করবে। হজের দিন জাবালে রহমত বা রহমতের পাহাড়ে উঠে হাজিরা ইবাদত করেন। এ পাহাড়ে একটি উঁচু পিলার আছে। হজরত আদম (আ.) ও বিবি হাওয়া দীর্ঘদিন কান্নাকাটির পর এখানেই এসে মিলিত হয়েছিলেন। আর হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের দিন এই পাহাড়ের কাছে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিয়েছিলেন। আরাফাতের ময়দানে প্রবেশের একাধিক রাস্তা রয়েছে। কাল সকালে হাজিরা মিনার তাঁবুতে ফিরে গিয়ে জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন এবং কোরবানি করবেন। কোরবানির পশু জবাইয়ের পর তারা ইহরাম ভাঙবেন। এরপর হাজিদের মক্কায় গিয়ে পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করতে হবে। তারা জমজম কূপের পানি পান করবেন। সাফা-মারওয়া পাহাড় সাতবার প্রদক্ষিণ করে মাথার চুল ছেঁটে বা মাথা মুড়িয়ে হজের অত্যাবশ্যকীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন। এরপর মিনার তাঁবুতে ফিরে গিয়ে ১১ ও ১২ জিলহজ জামারায় তিনটি শয়তানের প্রতিকৃতিতে কঙ্কর নিক্ষেপ করবেন। ১২ জিলহজ ইচ্ছা করলে হাজিরা মিনা ত্যাগ করতে পারবেন। কেউ মিনায় অবস্থান অব্যাহত রাখলে পরদিন ১৩ জিলহজও শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ করে তবে মিনা ত্যাগ করতে হবে। এর মধ্য দিয়ে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে। মক্কা ত্যাগের আগে হাজিরা বিদায়ী তাওয়াফ করবেন। পরে হাজিরা যার যার দেশে ফিরে যাবেন। হজের আগে যারা মদিনায় যাননি, তারা মদিনায় যেয়ে প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন। এ বছর সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। হজযাত্রীদের শেষ ফ্লাইটটি ৫ আগস্ট সৌদি আরবে যাত্রা করবে। এছাড়া প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইট হবে আগামী ১৭ আগস্ট।