রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত

 রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত

রোহিঙ্গাদের প্রথম দলকে রাখাইনে ফেরত পাঠানোর তারিখ চূড়ান্ত করেও একেবারে শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। কারণ, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিবেশ নিয়ে শংকা। যে কারণে রোহিঙ্গারা তাদের আদি নিবাসে ফিরতে চায়নি। এখন রাখাইনে বিচ্ছিন্নতাবাদী আরাকান আর্মির সঙ্গে দেশটির সরকারি বাহিনীর সংঘাত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে নতুন করে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে। কূটনীতিকরা মনে করছেন, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও পিছিয়ে দিতে পারে। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম গত মঙ্গলবার তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘অস্বীকার করার উপায় নেই, একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে প্রত্যাশা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটিকে রাখাইনে পাঠানো যায়নি। এরপর নির্বাচন এগিয়ে আসায় এনিয়ে কোনো জোর ছিল না। তবে এখন বিশ্বাস করি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে গতি পাবে’। গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রথম ধাপে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত হলেও এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে তালিকা বিনিময়সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে প্রস্তুতিমূলক কাজ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ সীমান্ত থাকা প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমার। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক থাকা উভয় দেশের এগিয়ে চলার জন্যই জরুরি। অথচ এই রোহিঙ্গা সংকটের কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার হচ্ছে না বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আমরা চাই, দ্রুত এ সংকটের সমাধান হোক। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে বাংলাদেশের পর জাতিসংঘের সঙ্গেও মিয়ানমার চুক্তি করেছে। সেসব চুক্তির প্রতি মিয়ানমার সম্মান প্রদর্শন করুক এবং প্রত্যাবাসন দ্রুততর করতে জাতিসংঘও কার্যকর ভূমিকা পালন করুক।