রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি

 রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি

সন্দেহ নেই যে, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের আয়ের একটি বড় খাত, যা জাতীয় অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ফলে অগ্রগতির এ ধারা যেন কার্যকরভাবে এগিয়ে যায় তার লক্ষ্যে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য বলেই আমরা বিবেচনা করতে চাই। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশ একটি জনসংখ্যা বহুল দেশ। ফলে এ জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তর করার উদ্যোগ দেশের অর্থনীতি তথা সামগ্রিকভাবে জীবন যাপনের মানোন্নয়নের জন্যই জরুরি। এটা লক্ষ্যণীয় দেশ থেকে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শ্রমিক বিদেশের মাটিতে কাজের জন্য যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ প্রবাস জীবনে পড়ালেখার পাশাপাশি কাজের মাধ্যমেও অর্জন করে দেশে পাঠাচ্ছে। ফলে একদিক থেকে যেমন নিজের ও পরিবারের সচ্ছলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতেও রাখছে কার্যকর ভূমিকা।

 সম্প্রতি পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানা গেল, চলতি ২০১৯-২০ অর্থ বছরের সাড়ে ৯ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৫০ কোটি (১৪.৪০ বিলিয়ন) ডলার। এ ক্ষেত্রে বলা দরকার, চলতি মাসের ১৮ দিনেই ১০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আমরা এ অগ্রগতিকে অত্যন্ত ইতিবাচক বিবেচনা করে বলতে চাই- এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এবং জনসংখ্যা জনশক্তিতে রূপান্তর করে বিশ্ব বাজারে সুনাম বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা বিশ্ব বাজারে আরো বাড়বে। সার্বিকভাবে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে সরকারকে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষ ও যথাযথ যোগ্য শ্রমিকরাই যেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজের সুযোগ পায় তা নিশ্চিত করাও জরুরি। আমরা প্রত্যাশা করি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধির স্বার্থে চাহিদা অনুযায়ী সরকার বিভিন্ন দেশে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা সহ দেশকে এগিয়ে নিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার পিছপা হবে না।