রেমিট্যান্স প্রবাহ

 রেমিট্যান্স প্রবাহ

গত অর্থ বছরে বিদেশ থেকে আসা প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) কমেছে সাড়ে ১৪ শতাংশ। মূলত রেমিট্যান্স প্রবাহ নিম্নমুখীতার জন্য দায়ী ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অস্থিরতা ও তেলের মূল্য পতন ও দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য কমে আসা। জাতিসংঘের শ্রম সংস্থা আইএলও’র সাম্প্রতিক সময়ে এক হাজার ১০০ জন প্রবাসী বাংলাদেশির সাক্ষাতকারের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা গেছে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসী হওয়া মোট শ্রমিকের ৮০ দশমিক ৬ শতাংশই যাচ্ছেন দালাল ও ব্যক্তিগত মাধ্যমে। পক্ষান্তরে দেশের রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অভিবাসী হচ্ছেন মাত্র ১৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আর সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রবাসে যাচ্ছেন মাত্র ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২০১৭ সালে প্রবাসী আয় এসেছে ১৩ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

রেমিট্যান্স কমার একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে, দক্ষ জনশক্তির অভাব। আমাদের দেশের আগ্রহীদের বিদেশ গমনের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে প্রবাসী আয় না বাড়ার মূলে রয়েছে অদক্ষ জনবলের আধিক্য। যারা অর্থ উপার্জনের জন্য বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু দক্ষতার অভাবে ভাল মানের কাজে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারছেন না। ফলে হাড় ভাঙ্গা খাটুনি খেটেও পারিশ্রমিক সে তুলনায় জুটছে না। মূলত এ কারণে জনশক্তি রফতানির হার বাড়লেও রেমিট্যান্স হারাচ্ছে দেশ। এ জন্য দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ দরকার। কারণ অদক্ষ জনশক্তির আয়ও কম।