রাজনৈতিক সংকটের সমাধান ছাড়া নির্বাচন জনগণ মানবে না : ফখরুল

 রাজনৈতিক সংকটের সমাধান ছাড়া নির্বাচন জনগণ মানবে না : ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা অফিস : বিদ্যমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০১৮ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন ফখরুল। বিএনপি সমর্থিত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) যৌথ উদ্যোগে এই সভা হয়।

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন- যে সমস্যা আছে, সেই সমস্যার সমাধান করেন, সংকটের সমাধান করেন। তারপর নির্বাচনে যান। কিছুই না করে যদি নির্বাচনে যান, তাহলে নির্বাচন কী হবে? যা হবার তাই হবে। যেটা করেছেন ২০১৪ সালে তাই হবে। তিনি বলেন, এভাবে তো এবার নির্বাচন হবে না। এবার এদেশের মানুষ এই ধরণের নির্বাচন মেনে নেবে না- এটা পরিষ্কার। কতবার জেলে দেবেন, কতজনকে মারবেন, কতজনকে গুম করবেন- করতে পারেন। এবার এই ধরণের নির্বাচন এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। মির্জা ফখরুল বলেন-নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন দেখাশুনার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অর্থাৎ সব দলকে সমান সুযোগ দিতে হবে। আমরা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের একটা জাতীয় ঐক্য তৈরি করতে হবে। আমরা যদি সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারি, গণতন্ত্রের পক্ষের সমস্ত শক্তিগুলোকে একত্রিত করতে না পারি- তাহলে এই ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে দেশবাসী কোনোমতেই মুক্তি পাবে না।

সেজন্য গণতন্ত্রের পক্ষের সমস্ত শক্তিকে আমাদের একত্রিত করতে হবে- এটাই বাংলাদেশের ইতিহাস। আমরা যদি এটা করতে পারি, তাহলে আমাদের বিজয় লাভ সুনিশ্চিত। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা তথা মুক্ত গণমাধ্যম নিশ্চিত করতে হলে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে বলে মন্তব্য করে এজন্য সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। বিএফইউজের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন- আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সংগঠনের বর্তমান মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের একাংশের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।