মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ

 মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ

সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে দেশে বছরে ছয় লাখ মেট্রিক টন মাছ নষ্ট হয়। এতে প্রতি বছর প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়। মাছের সঠিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা গেলে এই ক্ষতি কমানো সম্ভব। আমাদের দেশে মাছ ধরা পরবর্তী সংরক্ষণে সঠিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে মৎস্য চাষিদের তেমন কোনো জ্ঞান নেই বললেই চলে। ফলে অনেক সময় মাছ পচে যায়। যেটি চাষিদের ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এ কারণে মৎস্য চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া চাহিদার তুলনায় মাছের বেশি উৎপাদন হওয়ায় বাজারে মাছের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। এ জন্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মাছের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানির বাজার করতে হবে। মাছের সহজ ব্যবস্থাপনা, প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মূল্য বৃদ্ধি এবং মাছের খাদ্যে অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের প্রভাব বিষয়ে কর্মশালাটি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। এদেশে প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৫৭ শতাংশ মৎস্য থেকেই মেটে। দরিদ্র, অতি দরিদ্ররাও এখন আমিষের চাহিদা মেটাতে পারছেন এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে প্রায় এক যুগ ধরেই বাংলাদেশ মৎস্য চাষে বিশ্বের শীর্ষ ৫ দেশের মধ্যে রয়েছে। মৎস্য চাষের ক্ষেত্র আরো বিস্তৃত করণে, উৎপাদন বৃদ্ধি কল্পে ব্যক্তি পর্যায়ে সহযোগিতার ব্যবস্থাকরণ প্রক্রিয়া আরো সহজ ও গতিশীল করলে সার্বিকভাবে এর ইতিবাচক প্রভাব আরো বেশি লক্ষ্যণীয় হয়ে উঠবে। মৎস্য সংরক্ষণের জন্য দেশের সব উপজেলায় সরকারি/বেসরকারি ভিত্তিতে ব্যাপকহারে হিমাগার প্রতিষ্ঠা করা দরকার। এতে লক্ষ লক্ষ টন মাছ নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। মৎস্যচাষীদের আর লোকসান বইতে হবে না।